যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভি, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রধান নৌবাহিনী এখন সাবমেরিন ড্রোন বা আন্ডারওয়াটার আনক্রুড ভেহিকল (ইউইউভি) তৈরি ও ব্যবহারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেছে। এই ড্রোনগুলো মূলত শত্রু সাবমেরিন নজরদারই এবং সমুদ্রের অন্তর্গত কেবল ও পাইপলাইন রক্ষায় ব্যবহৃত হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদক বলছেন, বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় উড়ন্ত ড্রোনের মতোই, সমুদ্রের গভীরে যুদ্ধের কৌশলও এখন পরিবর্তিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভি প্রথমবারের মতো এই ড্রোনকে সাবমেরিন ট্র্যাকিং ও সমুদ্র তলদেশের পাইপলাইন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া চীনের সাবমেরিন মোকাবিলার জন্য মার্কিন ১.৭ বিলিয়ন মূল্যের ‘ঘোস্ট শার্ক’ ড্রোন তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রও কয়েকটি (ইউইউভি) প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।
বিএই সিস্টেমস-এর পরিচালক স্কট জেমিসন বলেন, ‘এটি সামুদ্রিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন। ড্রোন ব্যবহার করে কম খরচে বড় পরিসরে নজরদারই সম্ভব হবে।’
নতুন প্রযুক্তি সংস্থা যেমন অ্যান্ডুরিল এবং হেলসিং দ্রুত ও সস্তায় ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম। যেখানে বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে অংশ নিচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাপ ও দক্ষিণ চীন সাগর নজরদারই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উদ্বেগের বিষয় হলও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নর্ড স্টিম ও বাল্টিককানেক্টর পাইপলাইনে হামলা এবং সমুদ্রের অন্তর্গত তথ্য ও বিদ্যুৎ কেবলে ক্ষতির ঘটনা বেড়েছে। রয়েল নেভি ‘প্রকল্প কেবট’-এর মাধ্যমে দ্রুত প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে। এই ড্রোনগুলো স্বল্প শক্তি ব্যবহার করে প্যাসিভ সেন্সরের মাধ্যমে সহজে নজরদারই করতে পারবে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, বড় ফ্লিটের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এখনও উচ্চ থাকবে এবং ড্রোনগুলো একে অপরের ওপরও হামলা করতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নৌবাহিনী এখন ‘দ্রুত, ব্যাপক ও স্থায়ী’ নজরদারই অর্জনের চেষ্টা করছে। যা আগ্রাসী প্রতিপক্ষ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।