রোহিত-কোহলিকে ছাঁটাই করেই কপাল পুড়ল গম্ভীরের?

নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও ঘরের মাঠে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ভারত। এক যুগেরও বেশি সময় ঘরের মাঠে অপরাজেয় হয়ে ওঠা দলটির জন্য এটা বড় ধাক্কা, যার দায় চাপানো হচ্ছে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের ওপর। তাকে ছাঁটাই করার দাবি উঠেছে, যদিও বিসিসিআই এখনই সে পথে হাঁটবে না। গম্ভীরের এই দুর্দিনে নতুন করে আলোচনায় এলেন বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা।

গুয়াহাটি টেস্ট হেরে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ভারতীয় দলের কোচ বলেছিলেন, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার টেস্ট ক্রিকেট থেকে হঠাৎ অবসরের পর একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সঙ্গে রবিচন্দ্রন অশ্বিনেরও সরে যাওয়াও বড় ধাক্কা। এরকম সন্ধিক্ষণের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে আগে কখনও যেতে হয়নি। খোদ অশ্বিন মনে করছেন দুই সিনিয়র ব্যাটার থাকলে ভারতীয় দলের এমন দুরবস্থা হতো না।

গম্ভীর ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার পর একে একে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন অশ্বিন, কোহলি এবং রোহিত। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে শেষ টেস্ট খেলেন তিন জন। প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি কোহলি-রোহিতেরা পার্থক্য তৈরি করতে পারতেন? ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার সুনিল গাভাস্কার অবশ্য ভিন্নমত দিয়েছেন। তার মতে, রোহিত-কোহলি থাকলেও দলের বিশেষ লাভ হতো না। কারণ, লাল বলের ক্রিকেটে দুজনেই বাজে ফর্মে ছিলেন।

গাভাস্কার বলেছেন, ‘অবসরের সিদ্ধান্ত অবশ্যই সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের নিজস্ব। তবে তাকে কেউ পরামর্শ দিতেই পারে। মনে হতে পারে, তাদের অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ভাবনাটা সঠিক নয়। তারা তিন জন থাকলেই আমরা সিরিজ জিততাম, তার নিশ্চয়তা নেই। আমরা তো নিউজিল্যান্ডের কাছেও ৩-০ ব্যবধানে হেরেছি। তখন দলে তারা তিন জনই ছিল। অস্ট্রেলিয়া সফরেও তো তেমন কোনো লাভ হয়নি।’

পরিসংখ্যান বলছে, কোহলি শেষ ১৫টি টেস্টে ৩২.৫৬ গড়ে করেছেন ৮১৪ রান। সেঞ্চুরি ২টি। শেষ ১০টি করে টেস্ট ধরলে কোহলির গড় আরও খারাপ, ২২.৪৭। শুধু ঘরের মাঠে শেষ পাঁচটি টেস্টে কোহলির রান ১৯২। একটিও সেঞ্চুরি নেই। গড় ২১.৩৩। রোহিতের অবস্থা আরও খারাপ। তার শেষ ১৫টি টেস্টে গড় ২৩.১১। শেষ ১০ টেস্টের গড় ১৮। শুধু ঘরের মাঠে শেষ পাঁচটি টেস্টে রোহিতের রান ১৩৩, গড় ১৩.৩০।

উল্লেখ্য, টেম্বা বাভুমার দল ভারতকে লাল বলের ক্রিকেটে হোয়াইটওয়াশ করার পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেছিলেন, ‘পরিবর্তন বা পালাবদলের নির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকা উচিত। এই পদ্ধতির মধ্যে স্বচ্ছতা না থাকলে বিষয়টাকে ব্যক্তিগত এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত মনে হয়। কোহলি দলে থাকলে তরুণদের সাহায্য করতে পারত। রোহিতও সাহায্য করতে পারত। আমিও করতে পারতাম। অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারতাম।’