‘আল্লাহ! চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী আর মামলাবাজদের হাত থেকে এই দেশকে রক্ষা করুন।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের জন্য আবেগ ঘন দোয়া এবং বর্তমান সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করার আকুতি নিয়ে আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) শেষ হলও তিন দিনের চরমোনাই মাহফিল।
লাখো ভক্তমুরিদানের তওবা আর চোখের পানিতে ভেসে গেল চরমোনাই মাদরাসা প্রাঙ্গণ। হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইয়ের আখেরী মুনাজাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উপস্থিত হয়েছিলেন লক্ষাধিক মানুষ।
‘জুলাইয়ের সেই সব শহীদদের যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত করুন। আহতদের সুস্থতা দিন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এভাবেই দোয়া করেন পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি চারদিকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস আর মামলাবাজি। আল্লাহ! এই দেশকে এসব থেকে রক্ষা করুন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষকে মুক্তি দিন।’
ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়াসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও উম্মাহর শান্তির জন্যও বিশেষ দোয়া করেন তিনি।
সমাপনই বয়ানে পীর সাহেব সরাসরি দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের বিষয়ে বলেন, ‘দুনিয়ার মোহই সব পাপের উৎস। ব্যক্তিজীবনের আর্থিক অনিয়ম থেকে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, এমনকি ফ্যাসিবাদ, সব কিছুর পেছনে এই জাগতিক লোভ।’
‘মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানি করছে। কবরে গিয়ে মাফ না পেলে নিজেকে পশুর চেয়েও হীন মনে করতে হবে। তাকওয়া অর্জন করে মহান রবের সন্তুষ্টি নিয়ে পরকালের প্রস্তুতি নিন,’ আহ্বান জানান তিনি।
তীব্র ভাষায় পীর সাহেব বলেন, ‘যার অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই, সে আলেম-মুফতী-পীর যাই হোক, তার কোনও মূল্য নেই। অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করুন। রাগের ওপর লাগাম লাগান।’
তিনি নিয়মিত জিকির, গীবত থেকে বিরত থাকা, পরিবারে দ্বীনই শিক্ষা ও পর্দা প্রতিষ্ঠা, সব ধরনের নেশা ত্যাগ এবং শুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দেন।
বয়ানের পর পীর সাহেব মুরিদানদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সকলকে তওবা করান। পাপ থেকে বিরত থাকার শপথ নেন লাখো মানুষ। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাকওয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন তারা।
গত ২৬ নভেম্বর বুধবার শুরু হওয়া এই মাহফিলে পীর সাহেবের সাতটি বয়ানসহ বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য রাখেন।
সমাপনই অনুষ্ঠানে পীর সাহেব মাহফিল আয়োজকদের ধন্যবাদ এবং প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ওলামা ও গণমাধ্যম কর্মীদের মোবারকবাদ জানান।