ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, যখন আমরা ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স ঘোষণা করলাম তখন বাংলাদেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছিল। মানুষ অধির আগ্রহে সময় গুনছিল। কিন্তু দুঃখ সহকারে বলতে হয়, যখন এই অবস্থা দেখেছিল তখন ইসলামের নামে একটি দল ক্ষমতা ও স্বার্থের জন্য আমেরিকা ও ভারতের সাথে গোপনে বৈঠক করে। আমরা পরিষ্কার বলছি, আমরা আর আমেরিকা ও ভারতের ইনসাফ দেখে চাই না, আমরা মদিনা এবং ইসলামের ইনসাফ দেখতে চাই।
আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোলার চরফ্যাশনের টি বি স্কুল মাঠে ভোলা-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এখন যারা বলে আমরা শরীয়া বাস্তবায়ন করবো না, প্রচলিত আইনে দেশ চালাব। আসলে বাস্তবতা হলো এই, তাদের বাহ্যিক দেখতে সুন্দর ভেতরটা হলো মাকাল ফল। আমি ধিক্কারসহকারে বলছি, এই দেশ যখন দুর্নীতিতে পাঁবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, আপনারা ইসলামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে সেই দুর্নীতিবাজদের অংশীদার কিন্ত আপনারও ছিলেন। এ দায় কোনোক্রমে আপনারা এড়াতে পারবেন না।
চরমোনাই পীর বলেন, ৫৪ বছরে বার বার সরকারের পরিবর্তন দেখেছি। আমরা যে লক্ষ উদ্দেশ্য নিয়ে ভোট দিয়েছি, বাস্তবে সেটির প্রতিফলন হতে দেখি নাই। এখন পরিবর্তনের জন্য একটাই নীতি আদর্শ সেটি হলো ইসলাম। এটি কালজয়ী নীতি আদর্শ। আমরা শরীয়াহ বলে থাকি, অনেকে শরীয়া শুনলে ভয় পায়। ইসলাম মানেই শরীয়া, রোজা-নামাজ, হজ্ব-যাকাতসহ ইসলামের যতো বিধিবিধান রয়েছে সবই শরীয়া। এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাতপাখায় ভোট দিয়ে ইসলমাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
জনসভায় ভোলা-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী প্রফেসর কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল করিম আকরাম, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক কে এম শরিয়াতুল্লাহ, ইসলামী স্কলার মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ, মাওলানা হাসিব আর রহমান।
এ ছাড়া তিনি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভোলার লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ভোলা-৩ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মোসলেহ উদ্দিনের নির্বাচনী জনসভা এবং সন্ধ্যার পর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভোলা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমানের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
