নতুন নের্তৃত্বের হাতে বিওএ

রবিবার কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছেে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন। অনেক পদেই প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনটা ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। তবে নির্বাচন হয়েছে উপ-মহাসচিব পদে। দুই পদের তাতে সর্বোচ্চ ৭০ ও ৬৬ ভোট পেয়ে উপ-মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন ও বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান।

১৯ ভোট পেয়ে এ পদে ভোটের লড়াইয়ে তাদের কাছে হেরে গেছেন আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ। বিওএ’তে উপ-মহাসচিব পদ তিনটি। এর মধ্যে দুটি অলিম্পিক ক্যাটাগরি ও একটি নন-অলিম্পিক ক্যাটাগরিতে। নন-অলিম্পিক ক্যাটাগরিতে বিনা ভোটে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন।

তানভীরের হারের ফলে আগামী চার বছর বিওএ’তে থাকছে না আরচারির কোন প্রতিনিধিত্ব। অথচ শেষ দুই অলিম্পিকে বাংলাদেশের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছিলেন দুই আরচার রোমান সানা ও সাগর ইসলাম। এছাড়া গত বছর প্যারিসে প্যারা অলিম্পিকেও বাংলাদেশ সরাসরি খেলেছে আরচারি ডিসিপ্লিনে। বিশেষ এই আসরে বাংলাদেশকে সরাসরি নিয়ে গিয়েছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী আরচার ঝুমা আক্তার। নির্বাচনের উত্তেজনা কমে গিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদে এক অথবা সমান প্রার্থী থাকায়। বিশেষ করে মহাসচিব পদে প্রার্থী ছিলেন কেবল জোবায়দুর রহমান রানা। তবে সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকার মহাসচিব পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিল খোদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

গত বছর তাকে প্রধান করে ক্রীড়া পরিষদই ফেডারেশনগুলোর সংস্কারে গঠন করেছিল সার্চ কমিটি। যে কমিটি লাগাতার সভা করে ৫৫টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের সুপারিশ করে। অর্থাৎ নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন ফেডারেশনে বসানোর পর নিজেই অলিম্পিকের নির্বাহী পদে প্রার্থী হয়ে যান রানা। এ কারণে সার্চ কমিটিতে তার নিয়োগ কর্তা ক্রীড়া পরিষদ নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি অবহিত করে। তবে সরকারী সে চিঠি মূল্যহীন হয়ে গেছে রবিবার নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফলে।

সেখানে মহাসচিব হিসেবে লেখা রয়েছে রানার নাম। স্বার্থের সংঘাতের সরকারী আপত্তি ধোপে টেকেনি এ নির্বাচনে। সরকারে আপত্তি চোখ এড়িয়েছে সহ-সভাপতি পদে সার্চ কমিটির আরেক সদস্য মেজর ইমরোজ আহমেদের নাম ঘোষিত হওয়ায়। বাকী চার সহ-সভাপতি হলেন আব্দুল হাই সরকার, আব্দুস সালাম, মেজর জেনারেল ড. মো: নাঈম আশফাক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ। কোষাধ্যক্ত পদে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম। এছাড়া ২৫ জন নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নের্তৃত্বে এই কমিটি আগামী চার বছর বিওএর দায়িত্ব পালন করবে।