বন্ধ হলো আয়কর দিবস পালনের রীতিটি। জনগণকে কর প্রদানে উৎসাহিত করতে ৯ বছর ধরে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস উদযাপন করে আসছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল এ দিনটি পেরিয়ে গেলেও জাতীয় আয়কর দিবস উদযাপনের কোনো আয়োজন ছিল না। যদিও দিবসটি বাতিল বা পরিবর্তনের কোনো চিঠি ইস্যু করা হয়নি এনবিআরের পক্ষ থেকে।
এনবিআর সূত্র বলছে, ২০১৬ সাল থেকে ৩০ নভেম্বরকে আয়কর দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়েছে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর আয়কর দিবস উদযাপিত হতো। অর্থাৎ ১৬ বছর থেকে রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন জাতীয় আয়কর দিবস উদযাপিত হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে প্রথম আয়কর দিবস পালন করা হয়। ওই বছর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর আয়কর দিবস হিসেবে উদযাপিত হতো।
এনবিআরের পক্ষ থেকে গত বছর ভিন্ন কোনো দিনকে জাতীয় আয়কর দিবস ঘোষণা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে এর জন্য নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি এখনো। ফলে ২০২৪ সাল থেকে আয়কর দিবস নিয়ে কর অফিস কিংবা সাধারণ জনগণ কোনো তথ্যই জানেন না।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, ৩০ নভেম্বর এতদিন আয়কর হিসেবে উদযাপিত হলেও এ বছর থেকে আর পালিত হচ্ছে না। বিগত সরকারের সময়ের অনেক জাতীয় দিবস যেমন পরিবর্তন করা হয়েছে, এটারও পরিবর্তন হওয়ার কথা। এর আগে প্রতিবছর আয়কর মেলা হতো, সেটাও হচ্ছে না। আবার সেরা করদাতাদের জন্য পুরস্কার দেওয়ার রীতি ছিল। এ বছর সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটি নতুন করে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তাই আপাতত পুরো বিষয়টি পরিষ্কার নয়।
জানা গেছে, রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর পর ২০১৬ সাল থেকে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস পালন করে আসছিল এনবিআর। এদিন ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়ারও শেষ দিন। যদিও চলতি বছরে এরই রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে।
আয়কর নির্দেশিকা অনুযায়ী ৪৫ ধরনের সেবায় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করে এনবিআর। যে কারণে রিটার্ন দাখিলের বিকল্প নেই ই-টিআইএনধারীদের। তা না হলে পড়তে হয় নানা জটিলতায়। দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২৫ লাখের বেশি কর শনাক্তকারী নম্বরধারী (টিআইএন) করদাতা রয়েছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন।
এনবিআরের বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসমর্থ, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া অন্য সব ব্যক্তিগত করদাতার জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতারাও চাইলে অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। ই-রিটার্ন সিস্টেমে কোনো দলিল বা কাগজপত্র আপলোড না করেই আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য এন্ট্রি করে ঘরে বসে রিটার্ন দাখিল সম্ভব। ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ ও নগদ) মাধ্যমে কর পরিশোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট সিøপ ও আয়কর সনদ প্রিন্ট করা যাচ্ছে।
সাধারণত কোনো ব্যক্তি-করদাতার আয় যদি বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি হয়, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি, নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে ৪ লাখ টাকার বেশি হয়, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে ৫ লাখ টাকার বেশি হয় এবং প্রতিবন্ধী করদাতার আয় সাড়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হলে তার রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া আরও অনেক কারণে ব্যক্তিকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। শুধু রিটার্ন দাখিল করলেই হবে না, বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে হলে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্রও দেখাতে হবে।
এনবিআর সূত্র বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ করবর্ষে গত ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২০ লাখেরও বেশি করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করেছে।