বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বর্তমান সরকার বলে আসছে, আওয়ামী লীগ অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদনক্ষমতা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে, এতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে।

বাজেটে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২৮ হাজার ৯৯১ মেগাওয়াট। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) গতকাল জানিয়েছে, দিন ও রাত মিলিয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা হবে ১৫ হাজার ৩১০ মেগাওয়াট। সরকার বছরের শুরুতে গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ চাহিদার যে প্রক্ষেপণ দিয়েছিল, সেখানেও বলা হয়েছিল বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ১৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হতে পারে। বছরের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরেও হিসাব করলে সরল হিসেবে ১২ হাজার ৪৯১ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা অলস পড়ে থাকে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করতে চায়। গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সম্পাদিত বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে একতরফা ও বিতর্কিত শর্ত যুক্ত থাকায় বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বর্তমান সরকারের ওপর চেপে বসেছে। এ খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যৌথভাবে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ বেড়েছে ৩৯৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। তবে মূল বাজেটের হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২০ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন কারণে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের জ্বালানি খাতে দীর্ঘস্থায়ী ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং আমদানিনির্ভরতা খাতটিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এ সময় শুধু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি তেল পরিশোধন এবং মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল (ডিজেল) ও এলএনজির স্পট মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম সামান্য সমন্বয় করেছে। অন্যদিকে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে এবং এর মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত