ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার

বর্তমান সময়ে চাহিদাসম্পন্ন পেশার তালিকায় শীর্ষে আছে গ্রাফিক ডিজাইন। পৃথিবী জুড়ে ছোট-বড় দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারের জন্য, ব্যবসার প্রচারের জন্য নানা রকম পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড বানানো হয়, যার সব ডিজাইন একজন গ্রাফিক ডিজাইনারের কাজ। বিশ্ব জুড়ে রয়েছে কোটি কোটি ওয়েবসাইট, তৈরি হচ্ছে এবং হবে আরও কোটি কোটি ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ, এসব কিছুর ডিজাইনও করেন গ্রাফিক ডিজাইনার। গ্রাফিক ডিজাইনের সেক্টরের কাজ ও কাজের পরিধি বিশাল।

যা জানতে হবে

সাধারণত গ্রাফিক ডিজাইন শেখার জন্য কোনো একাডেমিক ডিগ্রির দরকার নেই। বেসিক কম্পিউটার জ্ঞান যেমন অপারেটিং কাজ জানা থাকলেই হবে। যেমন মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল এবং পাওয়ার পয়েন্টে মোটামুটি ধারণা থাকলে ভালো। কাজ শিখতে ইন্টারনেট সংযোগ দরকার হয়। বিভিন্ন রিসোর্স থেকে প্রচুর ডিজাইন দেখা এবং ধারণা নিতে হবে। কীভাবে কাজ করতে হবে, কী ধরনের প্রোডাক্ট বা ক্যাটাগরির জন্য কী রকম ডিজাইন করা উচিত।

গ্রাফিক ডিজাইনারের আঁকাআঁকির গুণ থাকলে ভালো। আঁকাআঁকি মূলত গ্রাফিক ডিজাইনের একটা পার্ট। এই পার্টটি সাধারণত ইলাস্ট্রেশন নামে পরিচিত। লোগো ডিজাইনের জন্য আঁকাআঁকি জানা থাকলে অনেক ভালো। প্রিন্ট ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন যেমন পোস্টার, ব্যানার, ফ্লায়ার, ব্রোশিওর, সোশ্যাল ব্রান্ডিং ইমেজ, ফটো এডিটিং, ফটো ম্যানিপুলেশন, রিজিউম ডিজাইন, প্যাকেজিং ডিজাইন, ওয়েব এবং মোবাইল ইউআই ডিজাইনসহ আরও বেশ কিছু সাইড আছে যেগুলোতে আপনি আঁকাআঁকি গুণ ছাড়াই গ্রাফিক ডিজাইনারের কাজ করতে পারবেন।

আঁকাআঁকি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন হবে যদি আপনি কোনো ক্যারেক্টার ডিজাইন করতে চান। সেখানে আপনার সৃজনশীলতা প্রকাশ করবেন। এই ধরনের কাজগুলোর অনেক চাহিদা এবং এর বাজেটও আছে। এই সেক্টরের ক্লায়েন্ট অনেকটা স্পেসিফিক। যেসব কোম্পানির বাজেট অনেক বেশি, অনেক বিলাসী, তারাই মূলত ইলাস্ট্রেশন ডিজাইনারদের নিয়োগ করেন। লোগো ডিজাইনের জন্য আর্ট জানা প্রয়োজন।

দেশে চাকরি

দেশের বিভিন্ন ছোট-বড় লোকাল এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে তাদের ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিংয়ের জন্য গ্রাফিক ডিজাইনারের দরকার হয়।  আবার অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে, যারা এসব ডিজাইন ফ্রিল্যান্স ডিজাইনারের মাধ্যমে করিয়ে নেয়। তাই গ্রাফিক ডিজাইনে ভালো দক্ষতা

থাকলে, দেশীয় এবং মাল্টিন্যাশনাল বিভিন্ন কোম্পানিতে ডিজাইনার হিসেবে জয়েন করতে পারবেন।

অনলাইন মার্কেটপ্লেস

 ফ্রিল্যান্সারদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের কাজ করে উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমানে

অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হলো ফাইভার এবং আপওয়ার্ক। এছাড়াও পিপল পার আওয়ার, ফ্রিল্যান্সার.কম, গুরু-সহ আরও বেশ কিছু জায়গা রয়েছে।

আউটসোর্সিং : আউটসোর্সিং মানে হচ্ছে একজনের কাছ থেকে কাজ নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া। অনেক ফ্রিল্যান্সার ডিজাইনার আছেন যারা নিজেদের কাজের চাপে বাড়তি কাজ করতে পারেন না। বাড়তি কাজগুলো পরিচিত ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস থেকে করিয়ে নেন। তিনি মূলত মিডিয়া হিসেবে কাজ করেন এবং প্রফিটের একটা অংশ পান। আপনার কাজের দক্ষতা এবং যোগাযোগ দক্ষতা ভালো হলে আউটসোর্সার হিসেবে উপার্জন করতে পারবেন।

ডিজাইন বিক্রি : দক্ষ ফ্রিল্যান্স ডিজাইনারদের আয় করার জন্য বেশ কিছু প্রফেশনাল সাইট আছে যেখানে একবার ডিজাইন আপলোড করে রাখলে লাইফটাইম আয় করা যায়। যেমন আপনি একটি ফ্লায়ার ডিজাইন করে সেই সাইটে তুলে রাখলেন। তারপর আপনার প্রোডাক্টটি মার্কেটিং করতে হবে যাতে করে তা বিভিন্ন ক্লায়েন্টের নজরে আসে। এভাবেই হয়তো যাদের পছন্দ হবে, তারা একটি নির্দিষ্ট মূল্যে আপনার ডিজাইনটি কিনে নেবেন। এই ধরনের সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম গ্রাভিকরিভার, থিমফরেস্ট, ফ্রিপিক, শাটারস্টক।

প্রশিক্ষণ :  গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে যারা দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তাদের অনেকেই নিজের কাজের পাশাপাশি অন্যকে শেখানোর জন্য প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। এর মাধ্যমে উপার্জন করেন।

দক্ষ ডিজাইনার হতে

প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা প্র্যাকটিস করতে হবে। নতুন ডিজাইন এবং টুলসের ব্যাপারে আপ-টু-ডেট থাকা। প্রতিষ্ঠিত ডিজাইনার এবং মার্কেটপ্লেসে প্রফেশনাল ডিজাইনারদের কাজগুলো ফলো করা। ভালো পোর্টফোলিও তৈরির ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া। বিভিন্ন অনলাইন এবং অফলাইন মাধ্যমে নিজের কাজের এবং পোর্টফোলিও মার্কেটিংয়ের ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া। সময়মতো কাজ করার মানসিকতা থাকা।

আয়রোজগার

গ্রাফিক ডিজাইনার প্রতি মাসে বা প্রতি দিন কী পরিমাণ আয় করবেন তা সম্পূর্ণ তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে একটি বিজনেস কার্ড ডিজাইন করতে কেউ যেমন ৫ ডলার নেন, আবার অনেকেই আছেন একটি ডিজাইনের জন্য ১০০ ডলারের বেশিও নেন। তারাই পারেন, যাদের কাজের দক্ষতা এবং যোগাযোগের দক্ষতা ভালো করা।

লেখক : ফিচার রাইটার