মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে মূল্যবান মেহগনি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে ১৫–১৬টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে গেছে।
পশ্চিম ভাকুম গ্রামের মোসাম্মা রোমা আক্তার (৩৮) এ ঘটনায় ২ ডিসেম্বর সিংগাইর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। রোমা আক্তার মজিবুর রহমানের মেয়ে এবং তাঁর স্বামী আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে আছেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ২০ বছর আগে আব্দুল আজিজ সিংগাইর মৌজার আরএস ১৩১০ দাগে ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে মেহগনি গাছ লাগান।
সেই জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের একটি গ্রুপ গত ১ ডিসেম্বর সকালে গোপনে বাগানে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে সব গাছ কেটে ফেলে।
বাধা দিতে গেলে রোমা আক্তারকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে।
ঘটনায় ছয়জনকে নামীয় আসামি এবং আরও ১০–১২ জনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-
সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর এলাকার মধ্য সিংগাইর মহল্লার পঞ্চু মিয়ার ছেলে মো. কামাল হোসেন (৪৮), আমির হামজা (৫০), সাদিকুর রহমান হান্নান ৩৮),
মাহবুব (৩৬), জাহিদুল ইসলাম (২৮) ও আকবর (৪৫)।
অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
রোমা আক্তার বলেন, “প্রতিপক্ষ বহুদিন ধরে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। সুযোগ পেলে বাগানের বাকি গাছগুলোও কেটে ফেলবে- এমন আশঙ্কা রয়েছে।”
অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর কামাল হোসেন দাবি করেন, “জমিটি নিয়ে আগেও বিরোধ ছিল। একাধিকবার ডাকা হলেও রোমা আক্তার হাজির হননি।”
তবে গাছ কাটার ঘটনার বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার এসআই সিদ্দিকুর রহমান বলেন,
“আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গাছ কাটা হয়েছে- এটি সত্য। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”