জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের শেষ দিনে আলো ছিল দুই ব্যাটারের ব্যাটে—বরিশালের সোহাগ গাজী ও রাজশাহীর প্রিতম কুমার। দু’জনই সেঞ্চুরি করেছেন, তবে দলকে বাঁচাতে পারেননি কেউই। ময়মনসিংহের কাছে বরিশাল হেরেছে ৬৩ রানে, আর রাজশাহী সিলেটের কাছে হার মেনেছে ১০ উইকেটে।
গাজীর সেঞ্চুরি, তবু বরিশালের হার
৩৮০ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বরিশাল চতুর্থ দিন শুরু করেছিল ৪ উইকেটে ১০৮ রান নিয়ে। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার জাহিদুজ্জামান খান ও তাসামুল হক শুরুতেই ফিরলে চাপে পড়ে দলটি। ৬৯ বলে ৪১ রান করে রানআউট হন তাসামুল, কিছুক্ষণ পর মঈন খান ফিরলে ভেঙে যায় আরেকটি আশা।
জাহিদুজ্জামানকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান সোহাগ গাজী। দু’জন মিলে গড়েন ৭৫ রানের জুটি। ১০১ বলে ৮০ রান করে জাহিদুজ্জামানের আউটের পর একাই লড়াই চালান গাজী। শেষ পর্যন্ত ১৪৯ বলে ১০২ রানের দারুণ সেঞ্চুরি তুলে নিলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। বরিশাল থামে ৩১৬ রানে।
এর আগে আবু হায়দার রনির ৯৭ রানে ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৫৪। জবাবে ২১৭ রানে অলআউট হয় বরিশাল। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪২ রান করে ময়মনসিংহ। সেটিই তাদের জয় নিশ্চিত করার মতো লিড গড়ে দেয়।
প্রিতমের সেঞ্চুরি বিফলে, তবু ব্যাটে লড়াইয়ের স্বাক্ষর
অন্যদিকে সিলেটে ম্যাচের নাটকীয়তা শেষ হয়েছিল আরও আগেই—প্রথম ইনিংসেই কার্যত ছিটকে গিয়েছিল রাজশাহী। সিলেটের অমিত হাসানের ডাবল সেঞ্চুরি (২১৩) ও আব্দুল্লাহ গালিবের ১৮০ রানে গড়া ৫৩৫ তাদের এনে দেয় বিশাল লিড।
শেষ দিনে ৩ উইকেটে ১৪৬ রানে শুরু করে রাজশাহী। আগের দিনের সঙ্গী মেহরাবকে নিয়ে প্রিতম জুটি গড়লেও ৫৫ রানে তাকে হারান। এরপর রহিম আহমেদকে নিয়ে আরেকটি জুটি; কিন্তু সঙ্গীরা ফিরতে থাকায় একপ্রান্তে লড়াই করে যান প্রিতমই।
২৩৩ বলের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ১৪৩ রানে থামেন তিনি। তার আউটেই শেষ হয় রাজশাহীর আশা। ৩৩৬ রানে অলআউট হয় দলটি। ফলে চতুর্থ ইনিংসে মাত্র ৩৮ রানের লক্ষ্য বিনা উইকেটেই টপকে যায় সিলেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ২৩৬/১০, ৬১.৪ ওভার (মেহরাব হোসেন ৫৬, রহিম আহমেদ ৫১; নাবিল সামাদ ৪/৪২, আবু জায়েদ রাহী ৩/৬২, রেজাউর রহমান রাজা ২/৫৮) ও ২য় ইনিংস: ৩৩৬/১০, ৯৬.৪ ওভার (প্রিতম কুমার ১৪৩, এসএম মেহেরব ৫৫, সাব্বির হোসেন ২৭; আবু জায়েদ রাহী ৩/৬৬, নাবিল সামাদ ৩/৭০)।
সিলেট ১ম ইনিংস: ৫৩৫/৮ ডি. ১১৯.৪ ওভার (আব্দুল্লাহ গালিব ১৮০, অমিত হাসান ২১৩, জাকির হাসান ৬০, আশরাফুল হাসান রিহাদ ৪২*; নাহিদ রানা ৩/৮৮, আসাদুজ্জামান পায়েল ২/১০৬) ও ২য় ইনিংস: ৩৮/০, ৯.২ ওভার (জাকির হাসান ২০*, দিশান ১৩*)।
ফল: সিলেট বিভাগ ১০ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: অমিত হাসান।