পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে মদ বিক্রির নিয়মে পরীক্ষামূলক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড। দেশটিতে কয়েক দশক ধরে দুপুর বেলা মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন মদের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং অনুমোদিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো ছয় মাসের পরীক্ষামূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিয়ার, ওয়াইন এবং স্পিরিটস বিক্রি করতে পারবে।
থাই সরকারি কর্মচারীরা যেন কাজের সময় মদ পান করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সাল থেকে দুপুর বেলা মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। দেশটি একদিকে যেমন মদ বিক্রিতে নিয়ম আরোপ করেছে অপরদিকে আবার বিশ্বে সুপরিচিত প্রাণবন্ত পার্টি সংস্কৃতির জন্যও। যার কারণে এই নিয়মটি দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশের পর্যটকদের জন্য বিরক্তির কারণ ছিল।
বড়দিন এবং নববর্ষের ছুটির সময়টায় সবচেয়ে বেশি পর্যটক থাইল্যান্ডে ভ্রমণ করে থাকে। আর কদিন বাদেই এই ছুটি শুরু হবে। তার আগেই অ্যালকোহল বিক্রির নিয়মে পরিবর্তন আনল দেশটি।
বড়দিন ও নববর্ষের ভ্রমণ মৌসুমের ঠিক আগে এই উদ্যোগ নেওয়ায় পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আগামী ১৮০ দিনের জন্য রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মদ বিক্রিরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা একটি বিশেষ কমিটি পর্যবেক্ষণ করবে। এর আগে এই নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার বাথ পর্যন্ত জরিমানার বিধান ছিল।
নতুন সরকার, প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বে, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী সোফন সারাম এর মতে, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পুরনো কারণগুলো আর আগের মতো প্রাসঙ্গিক নয়। তাই নিয়ম শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে অ্যালকোহল সেবনের হার তুলনামূলক বেশি। এবং স্থানীয় বিয়ার ব্র্যান্ডগুলোর জনপ্রিয়তাও উল্লেখযোগ্য।