চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

চট্টগ্রাম নগরে কাস্টমসের দুই কর্মকর্তার প্রাইভেট কারে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি ওই দুই কর্মকর্তাকে গুলি করার হুমকিও দিয়েছে তারা। 

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের ডবলমুরিং থানার সিডিএ আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার দুজন হলেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) বদরুল আরেফিন।

সম্প্রতি দুই কনটেইনারে আমদানি নিষিদ্ধ পপি বীজ ও ঘন চিনি চালানের অনিয়ম ধরার কারণে উক্ত দুই কর্মকর্তার ওপর হামলা হতে পারে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান খান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমরা অফিসের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তিন ব্যক্তি এসে আমাদের গাড়ি থামান। থামানোর সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির কাচ ভাঙচুর শুরু হয়। একজন আরেকজনকে বলতে থাকেন, ‘গুলি কর, গুলি কর’। আমরা  কোনোভাবে গাড়ি  থেকে নেমে দৌড়াতে থাকি। একটা গলির  ভেতর ঢুকে প্রাণে বাঁচি। গাড়ি ভাঙচুর করা হলেও আমরা  কেউ গুরুতর আহত হয়নি। তবে কে বা কারা,  কেন এই হামলা করেছে, তা আমরা বুঝতে পারিনি।’

আরেক ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) বদরুল আরেফিন বলেন, তিনজন দুর্বৃত্ত একটি  মোটরসাইকেলে করে আসে। আমাদের কার থামিয়ে হঠাৎ ভাঙচুর শুরু করে। তাদের একজনের হাতে ছিল চাপাতি। গাড়ির কাছে এসে প্রথমে চাপাতি দিয়ে গাড়িতে কোপ  দেয় একজন। এরপর একজন গুলি করতে বলে। আমরা কাস্টমসের বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রতিদিন গড়ে ১২-১৪টি মামলা দায়ের করি। এ কারণে বিভিন্ন সময় হুমকি পেয়েছি, বলেন কাস্টমস কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। 

এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের  ডেপুটি কমিশনার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি দুই কনটেইনারে আমদানি নিষিদ্ধ পপি বীজ এসেছে। অন্য কনটেইনারে আনা হয়েছে ঘন চিনি। এই অনিয়ম ধরেছেন এ দুই কর্মকর্তা। আবার বিভিন্ন ধরনের কসমে টিকস আমদানিকে কেন্দ্র করে কাস্টমসে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। মিথ্যা  ঘোষণা দিয়ে মালামাল আনা হচ্ছিল। গত দুই মাসে এই সিন্ডিকেট  ভেঙে  দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে কিছুদিন ধরে তারা বিভিন্ন নম্বর থেকে মোবাইলে হুমকি পাচ্ছেন। কিছুদিন আগে নিজেকে সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি আসাদুজ্জামানকে প্রাণনাশের হুমকি  দেওয়া হয়। আমাদের ধারণা, কাস্টমসে অনিয়ম ধরার কারণেই আজকের এ হামলা হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে নগরের ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছি। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে। এর আগে আগে গত ৬ অক্টোবর হুমকির বিষয়ে বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একজন ব্যক্তি  ফোন করে ভয়  দেখান, মেরে ফেলার হুমকি  দেন।