চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের জলকদর খালের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বাইমাঝি পাড়া। একসময় যেখানে সারি সারি মাটির ঘর ছিল, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সেই বসতভিটা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কোথাও কোথাও ঘরের মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, এমনকি শিশুদের বই-খাতাও।
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন মিনু আক্তার। কাথরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জলকদর খালসংলগ্ন বাইমাঝি পাড়ার বাসিন্দা তিনি। দিনমজুর স্বামী ও পাঁচ সন্তানসহ সাত সদস্যের সংসার। কোনোরকমে সংসার চললেও সাম্প্রতিক বন্যা তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।
মিনু আক্তার জানান, তাদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে কাথরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে নুরানি মাদরাসায় পড়ে। আকস্মিক বন্যা ও পানির তীব্র স্রোতে ঘরটি ভেঙে পড়ায় কোনো আসবাবপত্র বা প্রয়োজনীয় জিনিস বের করার সুযোগ পাননি। মেয়ের বই-খাতা ও ছেলের মাদরাসার বইপত্র সবই মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। ফলে কয়েকদিন ধরে সন্তানদের স্কুল-মাদরাসায় পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমি ও আমার ভাসুরের পরিবার মিলিয়ে ১২ জন এই বাড়িতে থাকতাম। এখন সব হারিয়ে পাশের দেবরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। অর্থের অভাবে ভেঙে পড়া ঘর মেরামত বা নতুন করে নির্মাণ করতে পারছি না। কিছু শুকনো খাবার পেলেও বড় ধরনের কোনো সহায়তা পাইনি। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা হচ্ছে সন্তানদের লেখাপড়া কীভাবে চালিয়ে যাব।
একই এলাকার বাসিন্দা এসএম মিজানুর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় আমাদের পিতৃপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আমাদের ছয় ভাইয়ের পরিবারসহ মোট ৩৩ জন এই বাড়িতে বসবাস করতাম। এখন সবাই গৃহহীন হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। সামাজিক অবস্থানের কারণে কারও কাছে কষ্টের কথাও বলতে পারছি না। আমার চাচা মরহুম অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুবও এই বাড়িতে বসবাস করতেন। বন্যায় আমাদের সবকিছু বিলীন হয়ে গেছে।
কাথরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. হারুনুর রশিদ জানান, জনপ্রতিনিধিদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ বাগমারায় ২০০ পরিবার, ২ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ বাগমারা ও নয়াপাড়ায় ১৮০ পরিবার, ৩ নম্বর ওয়ার্ড মধ্য বাগমারায় ১৫০ পরিবার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব বাগমারা ও মানিক পাঠানে ১৪০ পরিবার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বাইমাঝি পাড়ায় ১৯০ পরিবার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০ পরিবার, ৭ নম্বর ওয়ার্ড কোটপাড়া ও কাথরিয়ায় ১৪০ পরিবার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বরইতলীতে ১৫০ পরিবার এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব কাথরিয়া ঘোনাপাড়ায় ১৬০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, সম্পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে কাথরিয়া ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের দাবি।
কলেজে যাওয়ার পথে অচেতন ছাত্রী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি