মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো (ডিআরসি) ও রোয়ান্ডার মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন চুক্তিকে 'ঐতিহাসিক' বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এটি পূর্ব কঙ্গোর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অবসানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং একই সঙ্গে অঞ্চলটির মূল্যবান খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারিত করবে।
ওয়াশিংটনে স্বাগত জানানো হয় কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তিশিসেকেদি ও রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামেকে। ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি তার আন্তর্জাতিক দরকষাকষির সক্ষমতার প্রমাণ এবং তিনি আবারও ইঙ্গিত দেন যে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও কাতারের নেতৃত্বে চলা মাসব্যাপী শান্তি প্রচেষ্টার ফল এই চুক্তি।
চুক্তির আরেকটি বড় দিক হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র কঙ্গো ও রুয়ান্ডার বিরল খনিজ সম্পদে নতুন করে প্রবেশাধিকার পাবে—যা যুদ্ধবিমান, মোবাইল ফোনসহ বহু উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে অত্যাবশ্যক। যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই খনিজের বিকল্প উৎস খুঁজছে। ট্রাম্প বলেন, বড় বড় মার্কিন কোম্পানি শিগগিরই দুই দেশে বিনিয়োগ শুরু করবে এবং “সকলেই প্রচুর অর্থ উপার্জন করবে।”
তবে চুক্তি স্বাক্ষরকে ঘিরে উদযাপনের মাঝেও পূর্ব কঙ্গোতে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় অঞ্চলটি বহুদিন ধরেই অস্থিতিশীল। রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহীরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহর দখল করে মানবিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে, যার ফলে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। গোমার মতো বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমানবন্দর ও ব্যাংক বন্ধ, নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া—মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।
কঙ্গো ও রোয়ান্ডার কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই চুক্তি কেবল প্রথম ধাপ; টেকসই শান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।