আমাদের দলের সবচেয়ে শক্তির জায়গাটাই হলো দলগত বন্ধন

প্রথমবার অংশ নিয়েই শিরোপা জয়ের জোরালো সম্ভাবনা জাগিয়েছে ময়মনসিংহ। দলের কোচ সাবেক পেসার নাজমুল হোসেনের কথা শুনেছেন দেশ রূপান্তর-এর সামীউর রহমান

জাতীয় লিগে ময়মনসিংহ দল এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে। নতুন একটা দল নিয়ে এই আসরে আপনার যাত্রাটা কেমন ছিল?

নাজমুল হোসেন : আমাদের যাত্রার শুরুটা একটু কঠিনই ছিল। একটা দল ভেঙে (ঢাকা মেট্রো) আবার আরেকটা দল গড়া, আবার ময়মনসিংহের খেলোয়াড়দের নেওয়া; প্রথম দিকে দল করাটাই অনেক কঠিন ছিল। ওদিকে ঢাকা বিভাগ ওরাও খেলোয়াড় ছাড়ছিল না, সবকিছু মিলিয়ে সবার যখন সব খেলোয়াড় নেওয়া শেষ তখন আমাদের দলটা করা। এসব করতে করতে আমাদের বেশ দেরি হয়ে যায় প্রস্তুতি শুরু করতে, আমরা কিন্তু খেলার আগে মাত্র একদিন অনুশীলন করতে পেরেছিলাম। কারণ দলের সবাইকে এক করতে পারছিলাম না। কারণ ঢাকা আর ঢাকা মেট্রো তো বলতে গেলে একই, ওরা আগে খেলোয়াড় নিয়েছে। তাই খেলোয়াড়দের পেয়েছি দেরিতে, এভাবে যাত্রার শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে ময়মনসিংহ বেশ ভালোই খেলেছে, দেখা যাক ইনশাআল্লাহ শেষ ম্যাচে (প্রতিপক্ষ রাজশাহী) কী হয়!

যেটা বলছিলেন, খেলোয়াড়দের পেয়েছেন শেষ মুহূর্তে। তারপর বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন বিভিন্ন জন, তো সবার মধ্যে একটা দলীয় চেতনা বা একাত্মবোধ তৈরি করাটা কতটা কঠিন ছিল?

নাজমুল : দলটা হাতে পাওয়ার পর দলের যারা সিনিয়র ক্রিকেটার ছিল যেমন অধিনায়ক শুভাগত হোম, নাঈম শেখসহ আরও যারা আছে তাদের সঙ্গে বসেছি যে কী করতে পারি এটা আলোচনা করেছি। আমাদের খুব একটা সমস্যা হয়নি কারণ সবাই তো পেশাদার ক্রিকেটার, আর এরা সবাই অন্য কোথায় একসঙ্গে খেলেছে বা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একসঙ্গে খেলেছে। আমার কাজ ছিল শুধু একটু তাদের ‘রিফাইন’ করা এবং দলটাকে এক করা। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলেছি, একটা ম্যাচ যাওয়ার পর আমরা অনুশীলনে বেশি সময় দিয়েছি, হোটেলে বেশি সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি, এক হয়ে বসেছি... এভাবে করে করে আমাদের মধ্যে একটা বন্ডিং তৈরি হয়েছে, আমাদের দলের সবচেয়ে শক্তির জায়গাটাই হলো দলগত বন্ধন। এটাই আমাদের আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।

আপনাদের দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হচ্ছেন নাঈম শেখ, কদিন আগেই বিপিএলের নিলামে তার দাম কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ময়মনসিংহ দলের ভালো করার পেছনে নাঈমের অবদান কতটুকু?

নাজমুল : নাঈম অবশ্যই পরীক্ষিত খেলোয়াড়, বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটে। তবে আমাদের দলে প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই বলতে পারেন ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’। কোনো একজনের ওপর নির্ভর করে কিন্তু এই জায়গায় আসেনি। আমাদের এ রকমও ম্যাচে দেখা গেছে যে টপ অর্ডারের দিকের ব্যাটসম্যানরা অল্পতে আউট হয়ে গেছে, আবু হায়দার রনি গিয়ে ১০০ করে ফেলেছে। আবু হায়দার রনি আউট হয়ে গেছে, এরপর আমাদের বামহাতি স্পিনার আরিফ গিয়ে হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছে। আমাদের দলটা ব্যক্তিনির্ভর না। কোনোদিন আমাদের টেলএন্ডাররা ভালো রান করে দিয়েছে, কোনোদিন বোলিংটা ভালো করা দরকার বোলিংটাও ভালো হয়েছে। কোনো ব্যক্তিনির্ভরতা নেই, সম্পূর্ণ দলীয় প্রচেষ্টাতেই এই পর্যায়ে আসা।

এই যে জাতীয় লিগ হচ্ছে, মাত্র ৭টা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেই একটা মৌসুম শেষ। একটা টেস্ট খেলা দেশের জন্য এত কম ম্যাচ কি আপনার কাছে পর্যাপ্ত মনে হয়?

নাজমুল : অবশ্যই পর্যাপ্ত না, তবে জাতীয় লিগের পরে কিন্তু বিসিএল হয়, সেখানেও ৩-৪টা ম্যাচ পায় বেশ কিছু খেলোয়াড়। সংখ্যাটা কম, তবে এটাও দেখতে হবে যে আমাদের কিন্তু এখন খেলার পরিমাণও অনেক বেশি। যদি দেখেন খেলোয়াড়রা কিন্তু কিছুদিন আগে এনসিএল টি২০ খেলেছে, এরপর প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় ৪ দিনের ম্যাচ খেলল, এরপর সামনে বিপিএল খেলবে, ঢাকা লিগ খেলবে। খেলোয়াড়রা কিন্তু কোথাও না কোথাও খেলার মধ্যেই আছে। প্রতিটা দেশেই এখন খেলোয়াড়দের ফিট থাকা, সবগুলো খেলায় অংশগ্রহণ করা এটাও কিন্তু চ্যালেঞ্জিং। আমার কাছে মনে হয় পর্যাপ্ত না হলেও সামঞ্জস্যপূর্ণ আছে।

কোচিংয়ের সঙ্গে যেহেতু আছেন, সামনে বিপিএল আছে। কোন দলে কী প্রস্তাব পেয়েছেন কোচিং করানোর?

নাজমুল : না। জাতীয় লিগের পরে আমাদের বয়সভিত্তিক খেলাগুলো শুরু হবে, অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৮। অনেক কোচই আছেন, তবে দেখবেন যে এই সব জায়গায় কেউ আসতে চান না। আমি যখনই সময় পাই, সিলেটে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কোচিং করানোর চেষ্টা করি। গত ৫ বছরে এটাই চেষ্টা করছি। সিলেট বিভাগে দিশান একটা ছেলে খেলছে, রিহাদ একটা ছেলে আছে; এই জায়গায় যদি আমরা কাজ না করি তাহলে সিলেটে আমরা খেলোয়াড় তুলে আনব কীভাবে? আমি সরে গেলে রাজিন ভাই (সালেহ) বা ইমন (মাহমুদ) ভাই তারা তো বিপিএলে চলে যাবে, আমি না থাকলে দেখার কেউ নেই। আর আমি মনে করি বিপিএলের কোচিং করানোটা অনেকটা সম্পর্কের ওপরও নির্ভর করে। এসব ঝামেলার চেয়ে যতটুকু পারি তরুণ ক্রিকেটারদের শেখানোর চেষ্টা করি।