বাংলাদেশ ফুটবল লিগে মৌসুমের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জন্য। দলবদলের সময় ঘাটতি, মাঠের বাইরের নানা জটিলতা এবং রানের মধ্যে ওঠানামার কারণে প্রথম চার রাউন্ড শেষে তলানিতে ছিল সাদা–কালোরা। তবে পঞ্চম রাউন্ড যেন নতুন অনুপ্রেরণা এনে দিল আলফাজ আহমেদের দলের জন্য।
শনিবার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শীর্ষ চারেও উঠে এসেছে মোহামেডান। দিনের নায়ক ঘানার ফরোয়ার্ড স্যামুয়েল বোয়েটাং, যিনি একাই করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক—এটাই চলতি মৌসুমের প্রথম হ্যাটট্রিক। দলের অন্য গোলটি এসেছে উজবেক মিডফিল্ডার মুজাফ্ফর মুজাফ্ফরভের পেনাল্টি থেকে।
৩১ মিনিটে বক্সে ফাউলের পর পাওয়া স্পটকিক থেকে দলকে এগিয়ে নেন মুজাফ্ফরভ। বিরতির পর শুরু হয় বোয়াটেং–ঝড়। ৬৭ মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে খালি পোস্টে গোল করেন তিনি। পরে ৭৭ মিনিটে সাফিউলের চিপ পাস ধরে দারুণ কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ঘানার এই তারকা। ৮২ মিনিটে জুয়েল মিয়ার সুন্দর পাস থেকে নিখুঁত প্লেসমেন্টে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।
পাঁচ ম্যাচে দুই জয়, এক ড্র এবং দুই পরাজয়ে মোহামেডানের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস আছে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, রহমতগঞ্জ ও ফর্টিস যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে।
সুজন–মিতুলের দুর্দান্ত গোলকিপিং, ফল গোলশূন্য ড্র
দিনের আরেক ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মুখোমুখি হয় ঢাকা আবাহনী ও ফর্টিস এফসি। ম্যাচজুড়ে আক্রমণ–প্রত্যাক্রমণের লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত ০-০ ড্রয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দুই দলকে।
আবাহনীর গোলকিপার মিতুল মারমা ও ফর্টিসের সুজন পেরেইরার দুর্দান্ত উপস্থিতির কারণে একাধিক নিশ্চিত সুযোগও গোল হয়ে ওঠেনি। মৌসুম শুরুর পর থেকে ফর্টিসের ডিফেন্স ও গোলকিপিং ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী—সুজন এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে মাত্র দুই গোল হজম করেছেন। অন্যদিকে আবাহনীর আক্রমণভাগ সুযোগ সৃষ্টি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাব চোখে পড়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফর্টিস আক্রমণে ছিল এগিয়ে। নবম মিনিটে সাজেদের কর্নার ফেরান মিতুল, ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেন ফরহাদ। ৩১ মিনিটে ওকাফরের জোরালো শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। বিরতির পর ৪৮ মিনিটে ওকাফরের হেড গোললাইন থেকে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান মিতুল।
৬৫ মিনিটে সাজেদের ক্রস থেকে নিঝুম গোলের সামনে বল পেয়েও আকাশে তুলে মারেন। শেষ দিকে ওকাফরকে দুটি দারুণ সেভে গোলবঞ্চিত করেন আবাহনীর গোলরক্ষক মিতুল মারমা।
শেষ পর্যন্ত দুই দলই সুযোগ নষ্টের মাশুল দিয়ে এক পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে।