গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনাকে সামনে রেখে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি স্পষ্ট করে বলেছেন, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত না করলে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিই পূর্ণাঙ্গ হবে না।
গতকাল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দোহা ফোরাম ২০২৫–এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মত তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে কাতার তার জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখে। দেশটি সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং কূটনৈতিক উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তার ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তার ভাষ্য—ক্রমশ বিভক্ত হয়ে পড়া বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় কাতার সব পক্ষের সঙ্গে সমানভাবে যোগাযোগ বজায় রাখে, কারণ টেকসই কোনো সমাধান তখনই সম্ভব যখন যোগাযোগের দরজা খোলা থাকে।
তিনি জানান, ২০১৩ সালের পর কাতারের যে ভূমিকাগত অগ্রগতি দেখা গেছে, তার মূল ভিত্তি হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা। একইসঙ্গে তিনি জোর দেন—ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান শুধু গাজা পুনর্গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনার বর্তমান অবস্থানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ উল্লেখ করে শেখ মোহাম্মদ জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো—কাতার, তুরস্ক, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র—চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করছে, যা কার্যত আরেকটি অন্তর্বর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষের আহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাস্তবে ইসরাইল এখনো উপত্যকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।