অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থী ও এলাকার সুধীজনের মাঝে একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, জিডিপির ১০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা প্রয়োজন। শিক্ষার গুণগতমান না বাড়ার কারণে বিদেশে গিয়েও আমাদের শ্রমিকেরা প্রতারিত হচ্ছে। অন্য দেশের তুলনায় আমাদের শ্রমিকেরা ৭৫ শতাংশ বেতন কম পায় বলে তিনি জানান।
তৌহিদ হোসেন বলেন, বাচ্চাদের লেখাপড়ায় প্রচুর সময় ও সাপোর্ট দিন, তারা অনেকদুর এগিয়ে যাবে। তারা ভালভাবে লেখাপড়া করলে, সঠিকভাবে এগিয়ে গেলে মোট যোগফল হবে দেশের লাভ।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলার কিশোরীগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৬৩ বছর পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তার কৌশোরকালের স্মৃতিবিজরিত প্রিয় প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হলে সকলেই উচ্ছ্বসিত হন। ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত করে সমবেতরা। মঞ্চে তার প্রিয় শিক্ষক জহুরুল ইসলাম উপস্থিত হলে আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়ন হলেও সে তুলনায় শিক্ষকদের বেতন ভাতা তেমন বাড়েনি। তবে আগের তুলনায় এখন শিক্ষকদের বেতনভাতা অনেকটা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে লেখাপড়া ছাড়াই পাস করে দেওয়ার প্রবণতা ছিল। বর্তমানে এ অবস্থা হতে বের হবার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু অর্থ বরাদ্দ নয় এর যথাযথ ব্যবহার করা প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ছাত্র ছাত্রীর উপস্থিতি শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়, রাষ্ট্রে তা ইমপেক্ট করা হচ্ছে শিক্ষার মান উন্নয়ন। শিক্ষার এ উন্নতির ফলেও বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় তিনি ৩ জন গুণী শিক্ষকের কথা স্বরণ করে বলেন, স্যাররা স্বল্প বেতনে মন থেকে পড়াত বলেই আমি এই পর্যায়ে এসেছি। তবে লেখাপড়ার কোন বিকল্প নেই। কারণ আমার বাবা গ্রামে প্রথম গ্রাজুয়েট। তিনি ভাল ইংরেজি জানতেন। তিনি আমার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছেন।
তিনি আরো বলেন, দেশে গত ৬০ বছরে শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে সকল বিদ্যালয়ে অর্ধেকের বেশী শিক্ষার্থী এখন নারী।
তিনি আরো বলেন, অন্য দেশের তুলনায় ৫-৭ গুন বেশি টাকা দিয়ে আমাদের দেশের লোকজন বিদেশে শ্রমিক হিসাবে যায়, এটাকে তিনি রাষ্টের ব্যার্থতা বলে উল্লেখ করেন। তিনি জনগণকে জনসম্পদে পরিনত করার উপর গুরত্ব দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম), ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার তনিমা জামান তন্বী, মাগুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু প্রমুখ।