সান্তোসকে 'বাঁচিয়ে' অস্ত্রোপচারের টেবিলে যাচ্ছেন নেইমার, শেষ মিশন বিশ্বকাপ

চোট, হতাশা আর অনিশ্চয়তার একটি মৌসুম পার করার পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। হাঁটুর গুরুতর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও মাঠে নেমে শৈশবের ক্লাব সান্তোসকে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে রেলিগেশন থেকে বাঁচানোর কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছেন তিনি।

রবিবার ক্রুজেইরোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের পর সান্তোসের লিগে টিকে থাকা নিশ্চিত হয়। ম্যাচ শেষে নেইমারের মুখে ছিল হাসি। তিনি মজার ছলে বলেন, এটি তার ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার কোনো শিরোপা ছাড়াই বছর শেষ করা, যা তার জন্য ‘খুব্ডি অস্বাভাবিক’।

মানসিক উদ্বেগের স্বীকারোক্তি

তবে মজার মন্তব্যের পর সিরিয়াস ভঙ্গিতে নেইমার স্বীকার করেন, দলকে অবনমন থেকে বাঁচানো নিয়ে তার মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছিল। তিনি নিজের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করে বলেন, 'বছরটা সহজ ছিল না। অনেক লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম, অনেকটাই পূরণ হয়নি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সান্তোসে ফিরে এসে খেলতে পারা, সেটা করতে পেরেছি। আমার কাছে এই অর্জনই বড়।'

চোট ও সমালোচনার বাড়াবাড়ি

চোট সামলানো যে সহজ ছিল না, সে কথা জানাতে গিয়ে নেইমার উদাহরণ টানেন যে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার রদ্রিও ফিরতে লড়াই করছেন। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সমালোচনা সবসময় ‘বাড়াবাড়ি পর্যায়ে’ পৌঁছায়, 'নেইমার পার্টি করে, নেইমার বের হয়—এসব কথা তো চলতেই থাকে। চোটগুলো আমার জন্য কঠিন ছিল। ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের পর তো মনে হয়েছিল সীমা ছাড়িয়ে গেছে ওরা। এবার প্রথমবারের মতো নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল।'

শেষ তিন ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নেইমার

'অবনমন হজম করা যেত না’

শতভাগ ফিট না থেকেও মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেইমার আগের ম্যাচে জুভেন্তুদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে এগিয়ে নেন এবং শেষ ম্যাচেও ছিলেন মূল চরিত্র। তার মতে, সান্তোসের অবনমন হলে সেটা ‘হজম করা যেত না’। কোপা সুদামেরিকা (দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতা)-এ খেলার সুযোগ পাওয়াকে তিনি একটি পুরস্কার হিসেবে দেখছেন।

লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপ

সান্তোসে নিজের মৌসুমের মূল্যায়নে ১০-এর মধ্যে ৭ দিয়েছেন নেইমার। ২০২৬ সালে ক্লাবের জার্সিতে থাকা নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, এখন তার প্রধান দুটি লক্ষ্য স্থির: মানসিক বিশ্রাম এবং হাঁটুর অস্ত্রোপচার। সবশেষে, নেইমারের পূর্ণ মনোযোগ এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে, যাকে তিনি তার ক্যারিয়ারের ‘শেষ বড় উদ্দেশ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন, 'এখন মানসিক বিশ্রাম দরকার। দশ দিন ফুটবল ভুলে থাকতে চাই। তারপর অস্ত্রোপচার। এরপর পুরো ফোকাস থাকবে একটাই জায়গায়, শেষ মিশন—বিশ্বকাপ। সব ঠিকঠাক হলে জাতীয় দলে নিজের জায়গা নিয়ে ভাবতে হবে না।'