মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় যুবদলের সাবেক এক নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাকে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগী আল ইসলাম (৪২) জেলার সিরাজদীখান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ওই উপজেলার খাসকান্দি গ্রামের মৃত মুসা মাদবরের ছেলে।
গত ১ ডিসেম্বর একটি মারামারি মামলায় আল ইসলাম জেলা কারাগারে রয়েছেন। আর কারাগারে থাকায় অবস্থায় সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাহিদ মাসুম লিখিতভাবে ওই আবেদন করেন। আর আবেদনটি আদালতে পাঠাতে সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষর করেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী শিরিন আক্তারের অভিযোগ, সিরাজদীখান থানা ওসি আবু বকর সিদ্দিক গত ৫ ডিসেম্বর থানা থেকে বদলী হয়ে অন্যত্র কর্মস্থলে চলে যান। এর আগেরদিন ৪ ডিসেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তার স্বামী সাবেক যুবদল নেতা গ্রেপ্তার দেখাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে আদালতে আবেদন করেন তিনি।
শিরিন আক্তার বলেন, আমার স্বামী একজন আবাসন ব্যবসায়ী। এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার ঘুষ নিয়েই পুলিশ আমার স্বামীকে ফাঁসাতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করেছে।
এ বিষয়ে জানতে সিরাজদীখান থানার বিদায়ী ওসি আবু বকর সিদ্দিকের মোবাইল ফোনে একাধিক কল করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আলী আকবর নিরব বলেন, আল ইসলাম ২০১৩ সাল থেকে সিরাজদীখান যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপির দুর্দিনে তিনি বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়ে জেলও খাটেন। সম্প্রতি এলাকার একটি মারামারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির বলেন, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এ রকম কোনো কাজে যদি কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত হয়ে পড়ে সে বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
গত ১৯ নভেম্বর জেলার সিরাজদীখান উপজেলার বাসাইল বাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাটডাউন কর্মসূচির সমর্থনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ব্যানারে মিছিল করে। ওই ঘটনার ২৩ নভেম্বর সিরাজদীখান থানার এসআই নাহিদ মাসুম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ২৫০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে মামলা করেন।