গজারিয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১৪

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেঁধে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে চালানো চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত ১৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৪ জুলাই একই অভিযানে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুই দফার অভিযানে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— মো. শাহ আলম (২৩), মো. রনি শিকদার (৩৪), মো. মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মণ্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), মো. অলিউর রহমান (২৪), মো. জামাল (৪০), মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), মাইন উদ্দিন (৪৫), ছোটন (৩০), রিয়াজুল ইসলাম (২৬) ও আবুল খায়ের (৪০)। তাদের স্থায়ী বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার তেজগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ঊষা এগ্রো লিমিটেডের ভাড়া নেওয়া জায়গায় অবস্থিত ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্টোর ও স্টেক ইয়ার্ডে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায়। এ সময় তারা প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারী নির্মাণ যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।

লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল বিভিন্ন সাইজের ইলেকট্রিক ক্যাবল, রড কাটার মেশিন, পাইলিংয়ের সরঞ্জাম, লোহার পুলি, চায়না ইঞ্জিন, ৩০ হর্সপাওয়ারের মোটর, ওয়েল্ডিং মেশিন, ফুয়েল পাম্প, লিফটিং হেড, গালগাট্টা পুলি ও ট্রেমি হেডসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে গজারিয়া থানা পুলিশ। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে ঢাকার তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৪ জনকে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে কল পাওয়ার পরপরই আমরা মাঠে নামি। পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা থেকে দুই দফায় ১৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটো ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত