বাংলাদেশে উপেক্ষিত আরহাম অস্ট্রেলিয়া যুব দলে

২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে খেলতে দেখা গিয়েছিল আরহাম ইসলামকে। সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে নিজের টাকায় টিকিট কেটে উড়ে এসে এক সপ্তাহ ট্রায়াল দিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের হয়ে কম্বোডিয়ায় খেলার সুযোগ হয়েছিল তরুণ উইঙ্গারের। এরপর কেটে গেছে একটি বছর। বাফুফে আর খোঁজ নেয়নি আরহামের। যার মাধ্যমে এক বছর আগে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন, সেই আবিদ আনোয়ার যেচে পরে কয়েকবার বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন আরহামকে খেলানোর ব্যাপারে। তাতে গা করেননি বাফুফের কর্তারা। বিশেষ করে সর্বশেষ এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের আগে আবিদ জোর চেষ্টা করেছিলেন আরহামকে আনার ব্যাপারে। তবে বাফুফে থেকে তাকে বলা হয়, খেলতে হয় এক মাস আগে এসে ফের ট্রায়ালে যোগ দিতে হবে! বাংলাদেশের এমন উপেক্ষায় শিকার সেই আরহামকে ২০ সদস্যের যুব দলে ডেকেছে নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলা অস্ট্রেলিয়া।

ফাহামিদুল ইসলাম, জায়ান ইসলাম, কিউবা মিচেলের মতো তরুণ ফুটবলারদের সম্প্রতি অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দলে। প্রবাস জীবনের চাকচিক্য ফেলে তারা এসেছেন মাটির টানে। আরহামও চেয়েছিলেন লাল-সবুজকে নিজের করে নিতে। বাবার ইচ্ছায় সে পথে হেঁটেও ছিলেন। অথচ শুধু বাফুফের কিছু কর্তার অদূরদর্শীতায় আরহামের লাল-সবুজের স্বপ্ন এখন অনেকটাই মøান। তবে তার চোখে খেলে যাচ্ছে দ্য সকারুজ শার্ট পরে বিশ্ব মাতানোর ইচ্ছা।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দল শেষ করেছে বিশ্বকাপ অভিযান। ভবিষ্যতে চোখ রেখে তারা নতুন করে গড়তে চাইছে দলটি। সে ধারাবাহিকতায় এ মাসে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দল জাপানে একটি অনানুষ্ঠানিক ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। যেখানে খেলবে জাপান ও স্পেন অনূর্ধ্ব-২০ দল এবং জাপানের একটি ক্লাব দল। সেই টুর্নামেন্টে জন্য গঠিত ২০ সদস্যের দলে ডাকা হয়েছে একঝাঁক নতুন মুখ, যারা কখনোই অস্ট্রেলিয়ার বয়সভিত্তিক কোনো দলে খেলেননি। তাদেরই একজন বাংলাদেশ বংশদ্ভূত আরহাম।

কম্বোডিয়ায় বাছাই খেলার পর মেলবোর্নে ফিরে গিয়েছিলেন আরহাম। সে দেশের শীর্ষ লিগের দল ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন এফসির যুব দলে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখাও চলছে পাশাপাশি। সঙ্গে ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে ডাক পাওয়ার অপেক্ষা। চেয়েছিলেন হামজা চৌধুরীদের সঙ্গী হতে। নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়ে চেয়েছিলেন সিনিয়র জাতীয় দলে হামজা চৌধুরীদের সঙ্গী হতে। জায়ান, কিউবাদের দেখে আগ্রহটা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তবে বাফুফের কাছে আরহামের গুরুত্ব সেভাবে ছিল না। অথচ এই এক বছরে বয়সভিত্তিক বেশ কয়েকটি আসরে খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিবারই আরহামের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, সদুত্তর আসেনি বাফুফের কোচদের কাছ থেকে।

সেই আরহামের অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দলে সুযোগ পাওয়ার খবরটা সোমবার সকালে চাউড় হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। আরহামকে কেন ডাকা হচ্ছে না, এমন প্রশ্নে গত বছর অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু একাধিকবার বলেছেন, ‘আরহাম এখনো বাংলাদেশের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তার আরও সময় লাগবে।’

এ নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয়েছিল আরহামের বাবা আরিফের সঙ্গে। তবে তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তাকে বাংলাদেশে খেলার সুযোগ করে দিতে বড় ভূমিকা রাখা খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কনফিয়ানজার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবিদ আনোয়ারের কণ্ঠে ঝরেছে আক্ষেপ, ‘অনেক বলে কয়ে গত বছর তাকে ট্রায়ালের সুযোগ করে দিয়েছিলাম। নিজেকে প্রমাণ করে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স করেছিল আরহাম। এরপর থেকে অবশ্য আর বাফুফে ওর খোঁজ নেয়নি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সর্বশেষ খেলার আগে আমি নিজ উদ্যোগে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম তার ব্যাপারে। তবে বাফুফে থেকে জানানো হয়, তাকে নতুন করে ট্রায়াল দিতে হবে এবং কমপক্ষে এক মাস আগে আসতে হবে। অথচ সেই আরহাম এখন অস্ট্রেলিয়া দলে খেলছে।’ ওর বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি চান না আরহামকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হোক। এটাও বলেছেন, ‘আরহামের বাংলাদেশের হয়ে খেলার তেমন সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।’

একটা পথ অবশ্য খোলা থাকছে। আরহাম এই ডিসেম্বরে যে টুর্নামেন্ট খেলবেন সেটা ফিফা স্বীকৃত কোনো টুর্নামেন্ট নয়। এর মধ্যে যদি বাফুফে গুরুত্ব দিয়ে তাকে জাতীয় দলে খেলাতে রাজি করায়, তবেই বাংলাদেশ একজন সম্ভবনাময় ফরোয়ার্ড পাবে বড় সময়ের জন্য। তবে সেটা আন্তরিকভাবে বাফুফে চাইবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। সাইফুল বারী টিটুদের মতো কোচদের চোখে যে এখনো অপ্রস্তুত আরহাম!