৩৩ বছর আগে এই দিনে ‘মানকাড’ আউটে উত্তাল হয়েছিল ক্রিকেটবিশ্ব

আজ থেকে ঠিক ৩৩ বছর আগে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটেছিল এক বিশেষ ঘটনা, যা ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক তথা কিংবদন্তি অল-রাউন্ডার কপিল দেবের করা সেই ‘মানকাড’ আউট নিয়ে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়। ১৯৯২ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পোর্ট এলিজাবেথ স্টেডিয়ামে ঘটে ঘটনাটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ভারতের দেওয়া টার্গেট তাড়া করছে। ৯ম ওভারে কপিল দেব লক্ষ্য করেন, বল ডেলিভারির আগেই নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা পিটার কারস্টেন বারবার ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আগে একবার সতর্ক করা হয়েছিল কির্স্টেনকে। কিন্তু একই কাজ পুনরাবৃত্তি দেখে ‘হরিয়ানা হ্যারিকেন’ আর সংযত থাকতে পারেননি। রানআপে হালকা থেমে তিনি ননস্ট্রাইকের বেল ফেলে দেন। আম্পায়ারও কোনো দ্বিধা ছাড়াই আঙুল তুলে দেন।

কারস্টেন হতবাক হয়ে যান। এর পরপরই মাঠে শুরু হয় উত্তেজনা। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলস ও কির্স্টেনের সঙ্গে শুরু হয় কপিল দেবের কথার লড়াই। কেউ কাউকে ছাড়তে নারাজ। আম্পায়ারদের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা থামলেও ঘটনাটি দ্রুতই ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’ বনাম ‘আইন’ বিতর্কে রূপ নেয়। যদিও ক্রিকেটের আইনেই মানকাড আউটকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।কপিল দেবের মানকাড আউটের সেই মুহূর্ত।

এমসিসির ৩৮.৩.১ আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, বল ছাড়ার আগে নন-স্ট্রাইকার ক্রিজের বাইরে থাকলে বোলার তাকে আউট করতে পারবেন। একসময় এটি ‘আনফেয়ার প্লে’-এর অধীনে ছিল, কিন্তু পরে বিতর্ক কমাতে তা আলাদা করে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিশেষ করে ২০১৯ আইপিএলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের জস বাটলারকে রান-আউট করার পর নিয়মটি আরও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা হয়। অশ্বিন পরে জানিয়েছিলেন যে, মানকাড আউটে তিনি কপিলকে পাশে পেয়েছেন।

অনেক বছর পরে পিটার কির্স্টেনও স্বীকার করেন বিষয়টি। তিনি বলেন, ‘আমি মিথ্যা বলব না, কপিল আমাকে সতর্ক করেছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আমার এখন আর কোনো ক্ষোভ নেই। এক পেগ পানীয়ের সঙ্গে সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে গেছে।’ যদিও সেই ঘটনার পর মানকাডিং নিয়ে বিতর্ক থামেনি। এখনও কালেভদ্রে কোনো বোলার এমন আউট করে ফেললে ক্রিকেটীয় চেতনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। যদিও এই আউট আইনসিদ্ধ।