চলতি অ্যাশেজ সিরিজে প্রথম দুই টেস্টে হেরে ইংল্যান্ড এখন বড় সংকটে পড়েছে। যদিও বেন স্টোকসরা সমুদ্র সৈকতে ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছেন, তবে মাঠের খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকছেই। পরিসংখ্যান বলছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় পাঁচ ম্যাচ সিরিজ জেতার নজির টেস্ট ইতিহাসে মাত্র একবারই রয়েছে। সেটিও প্রায় ৯০ বছর আগে ১৯৩৬-৩৭ সালের অ্যাশেজে।
ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক ইতিহাস আরও হতাশার। শেষ ১০টি অ্যাশেজ সফরের আটটিতেই প্রথম দুই টেস্টে হার দিয়ে তারা সিরিজ শুরু করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় টেস্টের পর ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর ১৮টির মধ্যে ১৬টিই সিরিজে কমপক্ষে তিন টেস্টে হার মানে। ১৯৯৪-৯৫ সিরিজে ইংল্যান্ড একমাত্র ব্যতিক্রম, তখনও তাদের পরাজয়ের অনুপাত ছিল ৩-১।
২০২৩ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ড অল্পের জন্য ইতিহাস গড়তে পারেনি। বর্তমান দলের পুরো ব্যাটিং লাইনআপ সেই অভিজ্ঞতা বহন করলেও চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথম দুই টেস্টেই ব্যাট-বলে দারুণ পারফর্মেন্স করেছে অস্ট্রেলিয়া। এবার ইংল্যান্ডের গড় রান প্রতি উইকেট ২২.৭, অস্ট্রেলিয়ার ৩৮.২। এটি ২০২১-২২ ও ২০১৭-১৮ সিরিজের হতাশাজনক পরিসংখ্যানের সঙ্গেই মিলে যায়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় টানা ১৭টি টেস্টে জয়ের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড।
দেশের বাইরে ইংল্যান্ডের দীর্ঘতম জয়ের খরা ছিল পাকিস্তানে (১৯ টেস্ট)। সেই জয়খরা কাটাতে তাদের ৪০ বছর লেগেছিল। সিরিজে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ব্যাট করেছে মাত্র ২১৯.১ ওভার, অ্যাশেজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া দলের মধ্যে সবচেয়ে কম। বোলিংয়েও সমস্যা স্পষ্ট—টানা দুই টেস্টে প্রতি ওভারে ৪.৫+ রান খরচ করেছে তারা, যা বাজবলের যুগে সবচেয়ে অকার্যকর বোলিং প্রদর্শনী।
ইংল্যান্ডের নিচের দিকের ব্যাটাররা যেখানে দ্রুত আউট হয়ে ফিরছেন, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার দীর্ঘসময় লড়াই কর যাচ্ছে। তাদের এই লড়াই প্রথম দুই টেস্টেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ইংল্যান্ড। পরিসংখ্যান বলছে—এ অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হলেও ইতিহাস তার পক্ষে নেই। তবে এই সিরিজে প্রথম দুই টেস্ট শেষে স্পিনে এগিয়ে ইংল্যান্ডই। কিন্তু সিরিজ জিততে হলে তাদেরকে অলৌকিক কিছুই করতে হবে।