শেরপুরে শতবর্ষী বটগাছসহ অসংখ্য গাছ কাটলেন প্রিন্সিপাল 

শেরপুরে কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট (এটিআই) এর ভেতরের শতবর্ষী একটি বটগাছ, মেহগিনি, আম, কাঁঠাল সহবেশ কিছু গাছ কেটে ফেললেন প্রিন্সিপাল। আজ দুই দিন ধরে এই গাছগুলো কাটা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এটিআই এর এক কর্মকর্তা জানায়, প্রতিবছরের ন্যায় আগাছা পরিষ্কার, মরা গাছ কর্তন এবং ঝোপ-ঝাড় হওয়া গাছের ডালপালা কাটা হচ্ছে।

সরেজমিনে এটিআই এ গিয়ে দেখা গেছে, এটিআই এর প্রিন্সিপালের বাসভবনের অভ্যন্তরে একটি শতবর্ষী বটগাছ এবং একটি আম গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া এটিআই এর অভ্যন্তরে দেড়শ বছরের পুরাতন ‘শীষ মহল’ নামে একটি ভবনের সামনে ও আশপাশে মেহগনি, কাঁঠাল ও ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা হচ্ছে। এই গাছ কাটার বিষয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায় প্রিন্সিমানের নির্দেশে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। 

তবে এ বিষয়ে এটিআই এর উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রশিদ জানায়, কোন গাছ কাটা হয়নি। মরা গাছ ও বিভিন্ন গাছের ডালপালা ছাটা হচ্ছে এবং অবাঞ্ছিত কিছু গাছ কাটা হচ্ছে। 

এ দিকে এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা জানায়, এমনিতেই আমাদের পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। তার ওপর এভাবে যত্রতত্র বিশেষ করে সরকারি দপ্তরের গাছ কাটার কারণে পরিবেশের আরও বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আমরা মনে করি। আমরা পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অবৈধভাবে পরিবেশে ধ্বংস করে গাছ কাটার তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখার আহ্বান জানাই।

এ বিষয়ে এটিআই এর প্রিন্সিপাল ড. সালমা লাইজু বলেন, বিষয়টি বন বিভাগের দেখার নয়, তাই আমরা বন বিভাগের অনুমোদন নেয়নি। আমাদের বাৎসরিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে কিছু গাছের ডালপালা ছাটা হয়েছে, গাছ কর্তন করা হয়নি।

এ বিষয়ে বন বিভাগের শেরপুর ফরেস্ট রেঞ্জার ফারুক হোসেন বলেন, সরকারি যেকোনো দফতরের গাছপালা ছাটা বা কাটার প্রয়োজন হলে বন বিভাগের নির্ধারিত ফর্মে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অথবা স্থানীয় জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্তপূর্বক অনুমোদন দেয়া হয়। এটিআই গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের কাছে কোন অনুমতি নেয়নি।