বিশ্বজুড়ে অভিযানে ৩০ হাজার বন্যপ্রাণী উদ্ধার

বিশ্বজুড়ে অবৈধ বন্যপ্রাণী ও বনজ পণ্য বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান অপারেশন থান্ডার ২০২৫ পরিচালিত হয়। এ অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার জীবন্ত প্রাণী উদ্ধার এবং ১,১০০ সন্দেহভাজন অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ইন্টারপোল ও বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা (ডব্লিউসিও) এর যৌথ আয়োজন এই অভিযান ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলে। এতে ১৩৪টি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অংশ নেয়। এ সময়ে বিভিন্ন দেশে মোট ৪,৬৪০টি অভিযান পরিচালিত হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল ও ব্যতিক্রমী পোষা প্রাণীর চাহিদা বাড়ায় জীবন্ত প্রাণী পাচার নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অপারেশন থান্ডার ২০২৫ এ সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রবণতা ছিল বুশমিট বাণিজ্য। বেলজিয়াম, কেনিয়া ও তানজানিয়ায় বানর, জিরাফ, জেব্রা ও অ্যান্টিলোপের মাংসসহ বিভিন্ন চামড়া জব্দ করা হয়। বিশ্বব্যাপী উদ্ধার করা বুশমিটের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫.৮ টন। এছাড়া সামুদ্রিক প্রাণী পাচারও বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে ২৪৫ টন সুরক্ষিত সামুদ্রিক প্রজাতি উদ্ধার হয়। যার মধ্যে ছিল ৪,০০০ টুকরো হাঙরের পাখনা। এ বছর ১০,৫০০-এর বেশি প্রজাপতি, মাকড়সা ও বিভিন্ন আর্থ্রোপড এবং ১০ টনের বেশি বিরল উদ্ভিদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩২,০০০ ঘনমিটারের বেশি অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়। যা বৈশ্বিক বননিধন ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসে পাচারচক্রের ভয়াবহ প্রভাবকে তুলে ধরে।

দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, তানজানিয়া, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালিত হয়। শুধু ব্রাজিলেই সনাক্ত হয় ১৪৫ জন পাচারকারী।

ইন্টারপোল মহাসচিব ভ্যালডেসি উরকিজা বলেন, বন্যপ্রাণী পাচার এখন মাদক ও মানবপাচারের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধে রূপ নিয়েছে। 

ডব্লিউসিও এর মহাসচিব ইয়ান সন্ডার্স বলেন, সীমান্তে প্রতিদিনই কাস্টমস বাহিনী এই হুমকির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে।অভিযানে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে পাচারচক্র শনাক্ত ও ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দুই সংস্থাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।