জয়পুরহাটে ঘোড়ার গাড়িতে দুই শিক্ষককে রাজকীয় বিদায়

শিক্ষকতা জীবন শেষে জয়পুরহাটে দুই শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় বিদায় দিয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। অবসর নেওয়া দুই প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে সাজসজ্জায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। ফুল আর চোখেমুখে আবেগে শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় শিক্ষকদের বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায়। এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে খুশি সবাই। 

স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে বৃহস্পতিবার অবসর নেন জয়পুরহাট সদর থানা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আকতারুল ইসলাম ও মাহমুদ-উর-রহমান। তাদের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের প্রতি সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় বার্ষিক মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৫টার দিকে অবসর নেওয়া দুই শিক্ষককে ফুলের মালা পড়িয়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর ফুল দিয়ে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বিদায় জানায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাদের নিয়ে ঘোড়ার গাড়ি শহর প্রদক্ষিণ নিজ বাড়িতে পৌছে দেন। এমন উষ্ণ ও হৃদয়ছোঁয়া আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন তারা।

বিদায়ী শিক্ষক আকতারুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৭ সালে এই প্রতিষ্ঠানে যোগদানে করেছিলাম। আজ আমার শেষ কর্মদিবসে স্কুল থেকে বিদায় নিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে আমাদের বিদায় দেবে ভাবতে পারিনি। স্কুলের বর্তমান-  সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন বাকী জীবন ভালভাবে কাটাতে পারি।

মাহমুদ-উর-রহমান বলেন, ১৯৯০ সালে চাকরিতে যোগদান করেছিলাম। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি ছাত্র-ছাত্রীরা যেন ভালভাবে পড়াশুনা করে। আজকে বিদায়ের এই দিনে ছাত্রছাত্রী সহকর্মীদের ভালবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা আমাকে সম্মানের সাথে ঘোড়ার গাড়ি সাজিয়ে আমাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেয়। তাদের এই ভালবাসার আমি কোনদিন ভুলবোনা। আমাকে ঋণী করে রাখলো।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা যে আয়োজন করেছে তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষকের বিদায় এভাবেই রাজকীয়ভাবে হওয়া উচিত। আমরাও একদিন এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাব। এমন বিদায় যেন আমাদেরও হয় এটাই আমাদের কাম্য।

জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রুহুল আমিন বলেন, দুই শিক্ষকের কর্মজীবনে যে অবদান তা স্মরণ করে রাখার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ নানা আয়োজন করেছে। নতুন সংযোজন ঘোড়ার গাড়িতে করে তাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়া হবে। এটি নিঃসন্দেহে শিক্ষকদের মর্যাদা ও স্মৃতিকে লালন করবে, ধারণ করবে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক।