কম্বোডিয়ার সঙ্গে টানা কয়েক দিনের সহিংস সীমান্ত সংঘর্ষ এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল দেশটির সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) একটি রয়্যাল ডিক্রিতে তিনি এই ঘোষণা দেন। আগামী পঁয়তাল্লিশ থেকে ষাট দিনের মধ্যে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আনুতিন বলেন, সংসদ ভেঙে দেওয়াই জনগণের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার উপযুক্ত উপায়। তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র তিন মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার সংখ্যালঘু সরকার নানা সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল।
আনুতিন লিখেছেন, সংখ্যালঘু সরকারের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে স্থিতিশীলভাবে পরিচালনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণপ্রধান প্রগতিশীল পিপলস পার্টির সমর্থন হারানোর পর এই সমস্যা আরও তীব্র হয়ে দাঁড়ায়। পিপলস পার্টি শুক্রবার অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর আগের দিন তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলে, 'জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখাতে হলে সংসদ ভেঙে দিন।' এছাড়াও দলটি সামাজিকমাধ্যমে লিখেছে, 'ভোটকেন্দ্রে দেখা হবে।'
গত এক বছরে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ধারাবাহিকভাবে দুই প্রধানমন্ত্রীকে আদালত বরখাস্ত করেছে। আনুতিনের পূর্বসূরি পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ফাঁস হওয়া একটি ফোনকলের জেরে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পদচ্যুত হন। তার আগের প্রধানমন্ত্রী শ্রেত্থা থাভিসিনকে মন্ত্রিসভায় এক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক আইনজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করায় পদ হারাতে হয়। এর মাঝেই চলমান সীমান্ত সংঘাত দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো নড়বড়ে করে তুলেছে।