আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি এখন কলকাতায়। ফুটবলের এই মহানায়ককে বরণ করে নিতে মধ্যরাত পেরিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজারো ভক্ত। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ২৬ মিনিটে কলকাতায় অবতরণ করেন মেসি। ডিসেম্বরের শীত উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক আগমন টার্মিনালের গেট–৪ এলাকা হয়ে ওঠে জনসমুদ্র। হাতে পতাকা, মুখে স্লোগান, মোবাইল ক্যামেরায় প্রিয় ফুটবলারের প্রথম ঝলক ধরার চেষ্টা ছিল সবার মাঝে।
তবে মেসির ধারেকাছে যাওয়ারও কোনো সুযোগ ছিল না। কড়া নিরাপত্তায় ভিআইপি গেট দিয়ে দ্রুত বের করে আনা হয় বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে। দীর্ঘ কনভয় তাকে নিয়ে যায় হোটেলে। সেখানেও রাতভর অপেক্ষা করা ভক্তদের স্লোগানে শহরজুড়ে তৈরি হয় মেসি ম্যানিয়া। এই সফরে মেসির সঙ্গে রয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় কলকাতা ছাড়াও হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন মেসি ও তার দলবল। সফরের শেষ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সূচিও রয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা ৩০ থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারিত অতিথি ও আয়োজকদের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’-এ অংশ নেবেন মেসি। এরপর অনলাইনে তার সম্মানে নির্মিত একটি ভাস্কর্যের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করবেন।
দিনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত পর্বটি আসবে বিকেলে। এসময় মেসির যুব ভারতী স্টেডিয়ামে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেওয়ার কথা আছে। ম্যাচের পর একই ভেন্যুতে ভক্তদের সঙ্গে আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে কলকাতা পর্ব শেষ হওয়ার কথা। এরপর হায়দরাবাদে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ‘গোট কাপ’-এ অংশ নেবেন মেসি। সেখানে সেভেন-এ-সাইড সেলিব্রিটি ম্যাচ ও তার সম্মানে কনসার্টের আয়োজন রয়েছে।
এর আগে ২০১১ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ভারতে খেলেছিলেন মেসি। সফর নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত আমার জন্য বিশেষ। এখানকার ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের স্মৃতি আজও মনে আছে।’