অনৈতিক কাজের অভিযোগে বিতাড়িত, মসজিদের মাইকের মেশিন খুলে নিলেন ইমাম

বরগুনার আমতলীতে গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে ঈমাম মাওলানা মো. মাহবুব কাজীকে কাজী বাড়ি জামে মসজিদের সকল দায়িত্ব থেকে বের করে দিয়েছে কমিটি।

পরে রাগে ক্ষোভে মসজিদের মাইকের মেশিন খুলে নিয়ে গেছেন ইমাম মাহবুব কাজী। এতে বন্ধ ছিল মাইকে আযান দেওয়া। এ ঘটনায় ইমামের বিচার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

এ ঘটনায় মসজিদের মুসল্লি মো. ফোরকান কাজী শুক্রবার রাতে আমতলী থানায় সাবেক ইমাম মাহবুব কাজীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আমতলী থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ি গ্রামে অবস্থিত কাজিবাড়ি জামে মসজিদে সম্প্রতি ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির গুলিশাখালী ইউনিয়নের সদর মাওলানা মো. মাহাবুব কাজী কর্তৃক মসজিদের মাইকের মেশিন অপসারণের এ ঘটনাকে মুসল্লিরা সরাসরি ধর্মীয় কাজে ব্যাঘাত এবং মসজিদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

মুসল্লি শাহাজাহান কাজী বলেন, মাহবুব কাজীর কিছু অনৈতিক কাজের জন্য আমরা তাকে মসজিদ থেকে বিদায় দিয়ে দিয়েছি। তিনি মাইকের মেশিন, মসজিদে থাকা কম্বল ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

আল আমিন কাজী, মো. সোহাগ কাজীসহ একাধিক মুসল্লি অভিযোগ করে বলেন, ইমাম মাহাবুব কাজীর অনৈতিক কাজের জন্য আমরা গ্রামের লোকজন লজ্জিত হয়ে তাকে মসজিদ থেকে বিদায় দিয়ে দিয়েছি। তাকে বিদায় দেওয়ার পর তিনি হঠাৎ মসজিদে এসে বর্তমান ইমামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাইকের মেশিন ও মসজিদের জন্য ব্যবহারের জন্য রাখা কিছু মালামাল জোর করে নিয়ে গেছেন। এখন মাইকে আযান দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয় সাবেক ইমাম মাহাবুব কাজী বলেন, আমার টাকা দিয়া মাইকের মেশিন কিনেছি।

তিনি অনৈতিক কাজের বিষয় অস্বিকার করে বলেন, আমাকে চক্রান্ত করে মসজিদ থেকে সরানো হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালাচ্ছে চক্রান্তকারীরা।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গির হোসেন, মুঠোফোনে বলে এবিষয় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।