জকসু নির্বাচন: চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৪৭ প্রার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন–২০২৫ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, বিভিন্ন পদে মনোনয়ন জমা দেওয়া মোট ৪৭ জন প্রার্থীর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এই বাদ পড়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করায় নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রার্থীরা।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ কেন্দ্রীয় সংসদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সদস্য পদ থেকেও ১৫ জনের নাম বাদ পড়েছে। তালিকা প্রকাশের পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

প্রার্থীদের অভিযোগ, মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় যদি কোনো আপত্তি বা অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তা আগেই জানানো উচিত ছিল। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎ করে নাম বাদ দেওয়ায় ভোটারদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। অনেক প্রার্থী দাবি করেছেন, ডোপ টেস্টসহ প্রার্থী হওয়ার সব শর্ত পূরণ করার পরও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নির্দেশ করে।

স্বতন্ত্র জিএস পদপ্রার্থী মোসা. উম্মে মাবুদা জানান, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগঠনের অভিযোগের কারণে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং পরে প্রশাসন থেকে ডাকা হবে।

একই ধরনের বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী মো. শাহিন মিয়া। তার মতে, কার অভিযোগে বা কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা না জানানোয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে।

স্বতন্ত্র সহসভাপতি পদপ্রার্থী চন্দন কুমার দাস জানান, তার বিরুদ্ধে যে লিখিত অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, কারণ দর্শানোর সুযোগ পেলে প্রার্থিতা পুনর্বহালের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তবে তার মতে, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই অভিযোগের বিষয়টি জানানো হলে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণে শুরু থেকেই একটি মহল তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, কিছু প্রার্থী ডোপ টেস্টে অনুপস্থিত ছিলেন এবং কারও কারও বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল করা হবে বলে তিনি জানান।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক এড়াতে প্রশাসনের উচিত ছিল আরও স্পষ্ট ও আগাম ব্যাখ্যা দেওয়া। অন্যথায়, জকসু নির্বাচনকে ঘিরে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।