সুদানে সন্ত্রাসী হামলা

‘তোমরা হামার ব্যাটাক আনি দেও’, নিহত সবুজের মায়ের আর্তনাদ

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত লন্ড্রি কর্মচারি মো. সবুজ মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায়। তিনি উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর গ্রামের মৃত হাবিদুল ইসলামের ছেলে। নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে সবুজ মিয়ার গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরে ছোট ভগবানপুর গ্রাম। রবিবার বিকালে সবুজ মিয়ার গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, গ্রামজুড়ে শোকের মাতম। বাড়িতে আহাজারি চলছে। আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। তাদের শান্তনা দিতে আশপাশের লোকজন ভীড় করছেন। স্ত্রী নুপুর আক্তার (২২) আহাজারি করছেন। বারবার লুটিয়ে পড়ছেন।

নুপুর আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘আমাদের নতুন সংসার। অনেক স্বপ্ন ছিল। সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল, এখন স্বামীকেই হারালাম। আমি টাকা চাইনা, আপনারা আমার স্বামীকে এনে দেন’।

এসময় তার বৃদ্ধা মা ছকিনা বেগম (৬৮) কখনো কাঁদছেন, কখনো জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তিনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা কণ্ঠে নিজের ভাষায় বলছিলেন, ‘হামার একন্যা ব্যাটা। তাই কিসোক বিদেশোত গ্যালো। বিদেশোত না গ্যালে মরলো না হয়, তোমরা হামার ব্যাটাক আনি দেও’।

সবুজ মিয়ার পারিবারিক সুত্র জানায়, এক ভাই এক বোনের মধ্যে সবুজ মিয়া ছোট। একমাত্র বোন আরফিন বেগমের বিয়ে হয়েছে। সে ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন।

সবুজ ২০১০ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। দেড় বছর আগে নওগা জেলায় বিয়ে করেন। তাদের কোন সন্তান নেই। গত ৭ নভেম্বর সবুজ মিয়া সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যান।

সবুজ মিয়ার চাচা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় দেড়মাস আগে সবুজ বাড়িতে এসেছিল। সে বিদেশে যাওয়ার আগে বলেছিল, সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে গেলে অনেক টাকা ভাতা পাবে। সেই টাকা দিয়ে বাড়িতে অসমাপ্ত ঘর ঠিকঠাক করবে। বাড়ির জায়গায় বাড়ি থাকল, সে ফিরবে লাশ হয়ে। সবুজের লাশ যেন সরকার দ্রুত আমাদের কাছে পৌঁছে দেয় এটাই আমাদের দাবি।

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান মুঠোফোনে বলেন, সবুজ মিয়ার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। তার লাশ আসতে সময় লাগবে।

গতকাল শনিবার সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়। ওই হামলায় দায়িত্বরত ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং ৮ জন শান্তিরক্ষী আহত হন।