সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশি সৈনিক শামীম রেজা (২৫) নিহত হয়েছেন। তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার হোগলাডাঙ্গী গ্রামে আলমগীর ফকিরের ছেলে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টায় তার মৃত্যু খবর পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে শামীম রেজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কালুখালী উপজেলার হোগলাডাঙ্গী গ্রামে কলকলিয়া বাজারের পাশেই শামীম রেজার বাড়ি। বাড়িতে ঢুকতেই একটি কাঁচা টিনসেড ঘর। তার পাশেই একটি নির্মাণাধীন একতলা ভবন। উঠান জুড়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। ঘরের বাইরে বসে বিলাপ করছেন পরিবারের সদস্যরা। সদ্য নির্মিত একতলা বাড়ির ভেতরে শোকাহত মা ও স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। শোকের ভারে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এসেছেন। তারা পরিবারের লোকজনকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নিহত শামীম রেজার বাবা আলমগীর ফকির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার ছেলে দের বছর আগে বিয়ে করেছে। এখনো তার কোনো সন্তান হয়নি। কত স্বপ্ন ছিল ছেলেকে নিয়ে। অন্তত শেষবারের মতো আমার ছেলের লাশটা দেখতে চাই।
নিহত সৈনিকের ছোট ভাই সোহান ফকির বলেন, গতকাল টেলিভিশনে সুদানের ঘটনার খবর দেখার পর থেকেই আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ভাইয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। রাত ১২টার পর আমরা নিশ্চিত হই ভাই আর নেই। গত ১২ ডিসেম্বর তিনি বাড়িতে ভিডিও কলে কথা বলেছিল। তখনও কিছু বুঝতে পারিনি।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমরা নিহত শামীম রেজার বাড়ি পরিদর্শন করেছি। উপজেলা প্রশাসন সবসময় তার পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে। আমি জানতে পেরেছি আগামী ১৭ ডিসেম্বর মরদেহ দেশে আসবে। আগামীকাল নিশ্চিতভাবে এই বিষয়ে বলা যাবে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন শামীম রেজা। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে সুদানে যান। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলায় তিনি নিহত হন।
