বিগ ব্যাশে বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের অভিষেক ম্যাচেই রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিল হোবার্ট হারিকেন্স। শেষ ওভারের নাটকে সিডনি থান্ডারকে ১ বল বাকি থাকতে চার উইকেটে হারিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
নিনজা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে থান্ডার তোলে ৬ উইকেটে ১৮০ রান। ডেভিড ওয়ার্নারকে না পেয়ে ওপেনিংয়ে নামা স্যাম কনস্টাস করেন ২৮ রান, যদিও ইনিংসের শুরুতেই কনুইয়ে আঘাত পান তিনি। মাঝের ওভারে ক্যাম ব্যাংক্রফটের ৪৪ বলে ৬১ ও শাদাব খানের ২৪ বলে ৩৪ রানে ভর করে লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় সফরকারীরা। হারিকেন্সের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন বিলি স্ট্যানলেক (৩/৩৪) ও ক্রিস জর্ডান (২/৩৬)। প্রথমবার সুযোগ পেয়ে শৃংখলিত বোলিং করেন রিশাদ হোসেন। ৩ ওভারে উইকেট না পেলেও ১৮ রান তিনি। চার খেয়েছেন মাত্র একটি। রিশাদ বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করেছে। খুব বেশি টার্ন করানোর চেষ্টাই করেননি। পেসের বৈচিত্র্যেই তিনি ব্যাটসম্যানদের আটকে রেখেছেন। উইকেটে তখন ক্যামেরন ব্যানক্রাফট ও স্যাম কনস্টাস থিতু থাকলেও ব্যাট চালাতে পারেননি।ফিল্ডিংয়ে ভালো করেছেন তিনি।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল হারিকেন্স। নিখিল চৌধুরী ৩১ বলে ৪১, বেন ম্যাকডারমট ২৪ বলে ৩৮ এবং মিচ ওউইন ১৪ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। চৌধুরীকে এক রানে জীবন দেওয়ার মাশুল দিতে হয় থান্ডারকে—সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
শেষ ওভারে ওঠে বিতর্ক। ড্যানিয়েল স্যামসের একটি স্পষ্ট বাউন্সার ‘ওয়াইড’ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় হারিকেন্স শিবির। নিয়ম অনুযায়ী ওয়াইড বা নো–বল নিয়ে ব্যাটিং দল রিভিউ নিতে না পারায় সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগও ছিল না। পরিস্থিতি জটিল হলেও অধিনায়ক নাথান এলিস শেষ পর্যন্ত সোজা ড্রাইভে চার মেরে জয়ের সিল মেরে দেন—এক বল হাতে রেখেই।
পরবর্তী ম্যাচে হারিকেন্স খেলবে স্টার্সের বিপক্ষে (১৮ ডিসেম্বর), আর থান্ডারের প্রতিপক্ষ সিক্সার্স (২০ ডিসেম্বর)।