মাত্র ৩০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্য নিয়ে আইপিএল ২০২৬-এর মিনি নিলামে নাম লিখিয়েছিলেন কার্তিক শর্মা। অথচ শেষ পর্যন্ত তাকে দলে টানতে চেন্নাই সুপার কিংসকে গুনতে হয়েছে ১৪.২০ কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠছে—এত অল্প অভিজ্ঞ, আনক্যাপড এক ক্রিকেটারের জন্য ধোনির দল কেন এমন বড় বিনিয়োগ করল?
মিডল অর্ডারের ছক্কাবাজ সমাধান
কার্তিক শর্মা মূলত পরিচিত তার ভয়ংকর পাওয়ার-হিটিংয়ের জন্য। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মিডল অর্ডারে দ্রুত ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তার। মাত্র ১২টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৩৪ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬৪—এর মধ্যে রয়েছে ২৮টি ছক্কা। এই ছক্কা মারার ধারাবাহিকতাই তাকে আলাদা করে তুলেছে।
স্পিনারদের বিরুদ্ধে কার্যকর
কার্তিকের আরেকটি বড় শক্তি স্পিনের বিপক্ষে স্বাচ্ছন্দ্য। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সাই কিশোর ও শ্রেয়াস গোপালের মতো স্পিনারদের বিপক্ষে আগ্রাসী ব্যাটিং করে নজর কেড়েছেন তিনি। ভারতীয় কন্ডিশনে আইপিএলের জন্য এটি বড় প্লাস পয়েন্ট।
রঞ্জিতে ছক্কার রাজা
রঞ্জি ট্রফিতে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডও রয়েছে তার ঝুলিতে। লাল বলের ক্রিকেটেও যদি কেউ নিয়মিত ছক্কা মারতে পারে, টি-টোয়েন্টিতে তার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ থাকে না—ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সেটাই বিশ্বাস করেছে।
উইকেটের পেছনেও নির্ভরযোগ্য
শুধু ব্যাট নয়, উইকেটকিপার হিসেবেও কার্তিককে ভরসাযোগ্য মনে করা হয়। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে কিপার-ব্যাটার মানেই বাড়তি সুবিধা, আর চেন্নাই সেটাই চেয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গত মৌসুমে কার্তিক চেন্নাই স্কোয়াডের সঙ্গে ট্রেনিং করেছিলেন। অর্থাৎ ধোনি ও টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে কাছ থেকে দেখেছে, তার মানসিকতা ও কাজের নৈতিকতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছে। তাই নিলামে পরিচিত মুখটিকেই ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা।
নিলাম যুদ্ধ ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ
কার্তিক শর্মার জন্য নিলামে নামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, লখনৌ সুপার জায়ান্টস, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও শেষ দিকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বিশেষ করে কেকেআরের সঙ্গে টানটান লড়াইয়ে ১০ কোটি পেরোনোর পরও চেন্নাই পিছিয়ে আসেনি। কারণ, এটি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। আনক্যাপড ভারতীয় ম্যাচ-উইনারদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখন বড় অঙ্ক খরচ করতেই প্রস্তুত।
কার্তিক শর্মার সাথে ৩০ লাখ ভিত্তিমূল্যের আনকোড়া বাহাতি স্পিনার প্রশান্ত বীরকে ১৪ কোটি ২০ লাখ রূপীতে নিয়ে চেন্নাই। তাকে রবীন্দ্র জাদেজার জায়গায় নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হেড কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং। তিনি কিংসের নীতিগত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরতার পুরনো দর্শন থেকে সরে এসে এবার তরুণদের ওপর রাখার কথা বলেছেন এই কিউই সাবেক ক্রিকেটার, 'খেলা যেভাবে বদলেছে, সত্যি বলতে আমরা হয়তো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে একটু দেরি করেছি। টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি এসে বড় একটা পরিবর্তন আনি। রিজার্ভ হিসেবে যাদের দলে নিয়েছিলাম, তাদের দেখে বুঝতে পারি আমাদের কী করা দরকার। সেই কাজটাই আমরা শুরু করি এবং এখন সেটারই ধারাবাহিকতা চলছে।' কার্তিক ও বীরের মতো আনকোড়া দুজনকে নেয়ার যুক্ত দেখিয়েছেন তিনি, 'কার্তিককে আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। গত মৌসুমে সে আমাদের সঙ্গে ছিল। আর জাদেজা অন্যত্র চলে যাওয়ার পর যে ধরনের স্কিলসেট দরকার ছিল, বীর ঠিক সেটাই এনে দিতে পারে।'
৩০ লাখের অখ্যাত আকিব নবী বিক্রি হলেন ৮ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে
বয়স হয়ে গেছে ২৯। জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার আকিব নবী দার আগে কখনো খেলেননি আইপিএলে। ৩০ লাখ ভিত্তি মূল্যের সেই আকিব হইচই ফেললেন আইপিএল নিলামে। বিক্রি হলেন ৮ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে। দিল্লি ক্যাপিটালস কিনেছে তাঁকে।
আইপিএল নিলাম: ৪১ কোটিতে গ্রিন আর পাতিরানাকে কিনলো শাহরুখের কেকেআর