৬৫ কোটি রুপি নিয়ে আবুধাবিতে গতকালের নিলামে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরমধ্যে ২৫.২০ কোটিতে কিনেছে অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে। ১৮ কোটিতে শ্রীলঙ্কান পেসার মাতিশা পাতিরানা, ৯.২ কোটিতে বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েছে তারা। নিউজিল্যান্ডের মারকুটে ওপেনার ফিন অ্যালেনকে ভিত্তিমূল্য ২ কোটিতে কিনেছে কেকেআর।
নিলামের শুরুতেই ঝড় তোলেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। কেকেআর, রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সফল হয় কলকাতা। আইপিএল ইতিহাসে বিদেশি খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় এখন গ্রিন। তিনি ভেঙে দিলেন মিচেল স্টার্কের রেকর্ড। আইপিএলের ২০২৪ আসরের নিলামে এই কেকেআরই ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে অস্ট্রেলিয়া পেসারকে দলে ভেড়ায়। বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ হলেও সব মিলিয়ে গ্রিন আছেন আইপিএলের নিলামে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের তালিকার তিন নম্বরে। ২৭ কোটি টাকায় রিশভ পান্তকে দলে নিয়েছিল লখনৌ সুপার জায়ান্টস, সেটাই এখন পর্যন্ত রেকর্ড। দ্বিতীয় দামি খেলোয়াড় শ্রেয়াস আইয়ারকে গত বছর ২৬.৭৫ কোটিতে কেকেআর থেকে কিনেছিল পাঞ্জাব কিংস।
২০২৩ সালের নিলামে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায় গ্রিনকে কিনেছিল মুম্বাই। সেই টাকাতেই ২০২৪ সালে তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। এবার সেটাও ছাপিয়ে গেলেন তিনি। গ্রিন অবশ্য পুরো টাকা পাবেন না। ২০২৫ সালের আইপিএলের নিলামের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য ‘সর্বোচ্চ ফি’ সীমা চালু হয়। কোনো বিদেশি খেলোয়াড় ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ রিটেনশন স্তরের বেশি উপার্জন করতে পারবে না। বর্তমানে সেই সর্বোচ্চ স্তর হলো ১৮ কোটি রুপি। তাতে কেকেআর গ্রিনকে ১৮ কোটি টাকা দেবে। বাকি ৭.২০ কোটি টাকা বিসিসিআইয়ের খেলোয়াড় কল্যাণ তহবিলে যাবে।
পাতিরানাকে কিনতে লড়াই চলছিল দিল্লি ও লখনৌয়ের মধ্যে। লখনৌ ১৬ কোটিতে ওঠার পর পিছু হটে দিল্লি। এরপরই লড়াইয়ে নামে কলকাতা, কিনে নেয় পাতিরানাকে।
গতকালের নিলামে সবচেয়ে আলোড়ন তুলেছে দুই আনকোরা কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীরকে ১৪.২০ কোটিতে চেন্নাই সুপার কিংসের দলে নেওয়া। দুজনেরই ভিত্তি মূল্য ছিল মাত্র ৩০ লাখ। কিন্তু রীতিমতো যুদ্ধ করে দুজনকে কিনেছে ধোনির দল চেন্নাই। কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং কিংসের নীতিগত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরতার পুরনো দর্শন থেকে সরে এসে এবার তরুণদের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেছেন তিনি, ‘খেলা যেভাবে বদলেছে, সত্যি বলতে আমরা হয়তো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে একটু দেরি করেছি। টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি এসে বড় একটা পরিবর্তন আনি। রিজার্ভ হিসেবে যাদের দলে নিয়েছিলাম, তাদের দেখে বুঝতে পারি আমাদের কী করা দরকার। সেই কাজটাই আমরা শুরু করি এবং এখন সেটারই ধারাবাহিকতা চলছে।’ কার্তিক ও বীরের মতো আনকোরা দুজনকে নেওয়ার যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি, ‘কার্তিককে আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। গত মৌসুমে সে আমাদের সঙ্গে ছিল। আর জাদেজা অন্যত্র চলে যাওয়ার পর যে ধরনের স্কিলসেট দরকার ছিল, বীর ঠিক সেটাই এনে দিতে পারে।’
ভেংকটেশ আইয়ারের দাম কমল : গতবার ভারতীয় অলরাউন্ডার ভেংকটেশ আইয়ারকে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি দিয়ে কিনে হইচই ফেলেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এবার সেই ভেংকটেশ বিক্রি হয়েছেন ৭ কোটি রুপিতে। তাকে দলে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
দিল্লিতে ‘মিলার দ্য কিলার’ : নিলামের প্রথম সেটে একমাত্র ফিনিশার ডেভিড মিলার। ভিত্তি মূল্য ২ কোটি রুপিতেই তাকে দলে ভেড়াল দিল্লি ক্যাপিটালস। মিলারের এটি আইপিএলে পঞ্চম দল। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (২০১২-২০১৯), রাজস্থান রয়্যালস (২০২০-২১), গুজরাট টাইটান্স (২০২২-২০২৪), সর্বশেষ লখনৌ সুপার জায়ান্টসে খেলেছিলেন তিনি।
বিষ্ণয়ের দাম ৭ কোটি ২০ লাখ : ভারতীয় লেগ স্পিনার রবি বিষ্ণইকে ৭ কোটি ২০ লাখ রুপি দিয়ে কিনেছে রাজস্থান রয়্যালস। চেন্নাই সুপার কিংস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদও ছিল লড়াইয়ে।