মেডিকেলে চান্স পেলেন দেবীগঞ্জের যমজ দুই বোন

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের বিনয়পুর গ্রাম যেন এখন আনন্দের খবরেই মুখর। এই গ্রামের কৃষক ভুপেন্দ্র নাথ রায় ও বিনয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শান্তনা রানী মহন্তর জমজ দুই মেয়ে—পুজা রানী রায় ও পলি রানী রায়—২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে এমন অর্জন স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস ও গর্বের জন্ম দিয়েছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, পুজা রানী রায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে এবং পলি রানী রায় নীলফামারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই ফলাফল দুই বোনের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্যেরই আরেকটি স্বীকৃতি।

পড়াশোনার শুরু থেকেই তারা নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালে বিনয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই বৃত্তি অর্জন করেন। এরপর ২০২৩ সালে বিনয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উভয়ে গোল্ডেন জিপিএসহ উত্তীর্ণ হন এবং আবারও বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। ওই সময় পলি রানী রায় উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন।

এসএসসির পর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে তারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দুজনই গোল্ডেন জিপিএ অর্জনের পাশাপাশি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরে তারা রংপুরের রেটিনা কোচিং সেন্টারে কোচিং সম্পন্ন করে পরীক্ষায় অংশ নেন, যার ফলাফল এখন সবার সামনে।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়েও দুই বোনের স্বপ্ন স্পষ্ট। পুজা রানী রায় জানান, তিনি একজন কার্ডিওলজিস্ট হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। অন্যদিকে পলি রানী রায়ের আকাঙ্ক্ষা একজন গাইনোকলজিস্ট হয়ে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে ভূমিকা রাখা। এই অর্জনের পেছনে তারা বাবা-মায়ের নিরলস শ্রম, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণার কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিবারটির ধারাবাহিকতাও চোখে পড়ার মতো। জমজ বোনদের বড় বোন যুক্তি রানী রায় বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। পুজা ও পলি জানান, পড়াশোনার প্রতিটি ধাপে বড় বোনের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ তাদের এগিয়ে চলার পথে বড় সহায়তা করেছে।

২০০৬ সালের ১৫ জুলাই জন্ম নেওয়া এই জমজ দুই কন্যার সাফল্যে আবেগাপ্লুত তাদের মা শান্তনা রানী মহন্ত অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘মেয়েদের এই সাফল্যে একজন মায়ের চেয়ে বেশি খুশি আর কে হতে পারে! তবে তারা যখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবে, তখনই নিজেকে সত্যিকার অর্থে ধন্য মনে করব।’