রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তনে সাংবাদিকদের জন্য কোনো আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত ভেন্যুতে প্রবেশের জন্য পাশকার্ডও প্রস্তুত ছিল না। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুইবার তারিখ পরিবর্তনের পর আজ রাবিতে দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের অতিথি, আর্থিক স্বচ্ছতা, তারিখসহ নানা বিষয় নিয়ে গ্রাজুয়েটদের অভিযোগ থাকলেও তা উপেক্ষা করে আয়োজন চালানো হচ্ছে। সমাবর্তনের আগের রাত পর্যন্ত সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি এবং অনুষ্ঠানসূচি জানানো হয়নি। রাত ১০টার দিকে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি সংক্ষিপ্ত সিডিউল প্রকাশ করা হয়। তবে সাংবাদিকদের জন্য কোনো সংবাদ সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছিল না। পাশাপাশি, ভেন্যুতে প্রবেশের জন্য থাকা রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার জন্য সকাল ৮টা পর্যন্ত পাশকার্ড তৈরি করা হয়নি।
যমুনা টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান শিবলী নোমান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন কাল সকাল বেলাতেই। রাত তিনটা পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমগুলোর অধিকাংশকেই আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি, এমনকি একটি ফোনও দেওয়া হয়নি। ২৫ বছর সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করছি, এমন পরিস্থিতি দেখছি প্রথমবার।’
দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান বুলবুল হাবিব মন্তব্য করেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অথর্ব জনসংযোগ দপ্তর কখনো কেউ দেখেছে কি না বলতে পারি না।’
ঢাকা পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সমাবর্তনের সংবাদ কাভারের জন্য সাংবাদিকদের পাস কার্ড এখনো তৈরি করতে পারেনি রাবির জনসংযোগ দপ্তর। এভাবেই চলছে রাবি।’
ডিবিসি নিউজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মীর কাদির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন হচ্ছে অথচ কোনো সংবাদ সম্মেলন হয়নি। সাংবাদিকদের অফিসিয়ালি আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। নকীবালয় চলছে তাদের মর্জিমত।’
এখন টিভির রাজশাহী প্রতিনিধি মারুফ হাসান জানান, ‘দ্বাদশ সমাবর্তন উপলক্ষে প্রচার-প্রচারণা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাল সমাবর্তন অথচ এখনো কোনো সংবাদ সম্মেলন হয়নি এবং সাংবাদিকদের ইনভাইট করা হয়নি। শুধু ক্যাম্পাসে ২–৪টি পোস্টার ও ব্যানার দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ ইতোমধ্যে সমাবর্তন বয়কট করেছে। এবার সাংবাদিকরাও যদি এমন পরিস্থিতিতে বসে থাকে, তবে কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায় এড়িয়ে যেতে পারবে?’
উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রাতের সময় একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।