মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া সব নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল ট্যাংকারের ওপর সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। এতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও তীব্র হলো।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভেনেজুয়েলা তেলের আয় ব্যবহার করে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে অর্থ জোগান দিচ্ছে। তিনি বলেন, কারাকাস যুক্তরাষ্ট্রকে তেল, ভূমি ও অন্যান্য সম্পদ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার থাকবে। তার দাবি, দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌবহর দিয়ে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে রাখা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার সিদ্ধান্তটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইন, মুক্ত বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার বেপরোয়া লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জনগণের সম্পদ লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিষয়টি জাতিসংঘে তোলা হবে বলে জানিয়েছে।
মার্কিন অভিযানের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বহু নৌ-হামলা চালানো হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী মাদক পাচার ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপ। তবে সমালোচকদের মতে, এসব অভিযান বৈধ যুদ্ধনীতির সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং এতে অন্তত পঁচানব্বই জন নিহত হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত থাকা ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে এবং অর্থনীতির জন্য তেল রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দুই হাজার সতেরো সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটি ছায়া-নৌবহরের ট্যাংকার ব্যবহার করে কম দামে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে, যার বড় অংশ যাচ্ছে চীনে।
এই অবরোধ কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অঞ্চলটিতে একটি বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ, নজরদারি বিমান ও টহল সক্ষমতা মোতায়েন রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী।