আসিফ নজরুলের অগ্রাধিকারে বিকেএসপি

জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়েছেন জুলাই যোদ্ধা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এদিকে ঘোষণা হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ। তাই স্বল্প সময়ের জন্য এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আরেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে। দায়িত্ব নিয়ে বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বিভিন্ন খেলার ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছিলেন তিনি। প্রথম দিনেই নিজের স্বল্পকালীন পরিকল্পনাগুলো জানিয়েছেন আসিফ নজরুল। তাদের পরিকল্পনার অগ্রাধিকারে আছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি হাই পারফরম্যান্স ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলতে চান। যাতে করে বিকেএসপি থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে ক্রীড়াবিদরা অনিশ্চিত একটি জীবনের মধ্যে এসে না পড়ে।

বুধবার আসিফ নজরুল প্রথম জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এসেছিলেন। পদাধিকারে তিনি এই সংস্থার চেয়ারম্যানও। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন ক্রীড়ানুরাগী। আইনের শিক্ষক হলেও তার ক্রীড়াপ্রেম সম্পর্কে সবারই জানা। ক্রিকেট ও ফুটবলে নানা সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়মিতই দেখা যায় প্রতিক্রিয়া জানাতে। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও সেই ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হয়েছেন তিনি। তাই সময়টা তিনি কাজে লাগাতে চান পরিকল্পনার পথে হেঁটে।

এ সময়ে ফুটবল নিয়ে সারা দেশেই শুরু হয়েছে উন্মাদনা। ফুটবল অনুরাগী আসিফ নজরুল মতবিনিময় সভায় নিজেই তুলেছেন ফুটবল প্রসঙ্গ। এক পর্যায়ে ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের বক্তব্যে বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। বাফুফের নির্বাহী প্রধানের ফুটবল জ্ঞান ও বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ইমরান হোসেন তুষার ফুটবল উন্নয়ন ও পরিচালনায় সরকারের সাহায্য নিয়ে নিজস্ব মতামত ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আসিফ নজরুল। এরপর ফুটবলকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। বাফুফে সম্প্রতি ৬৪ জেলা নিয়ে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছে। আসিফ নজরুলের প্রত্যাশা তারা জেলা পর্যায়ের ১৬ দল নিয়ে একটি সুপার লিগ আয়োজন করবে। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি প্রস্তাবনা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। এর জন্য ক্রীড়া উপদেষ্টা তিনদিন সময়ও বেঁধে দেন।

ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের মতবিনিময় শেষে আসিফ নজরুল মাত্র দুই মাস সময়ের মধ্যে নিজের করণীয়গুলো সম্পর্কে একটা ধারণা দেন, ‘অতীতে কিছু ফেডারেশনে বেশি অগ্রাধিকার, আবার কিছু ফেডারেশনকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেবল আন্তর্জাতিক সাফল্য বা সম্ভাবনাময় খেলাকে গুরুত্ব দিলে চলবে না। যে খেলাটার ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে, তবে সম্ভাবনার দিক দিয়ে পিছিয়ে, সেগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। খেলাধুলার মধ্যে এলিটজম নিয়ে এলে হবে না। আমি একজন ক্রীড়ানুরাগী হিসেবে যত বেশি সম্ভব খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে চাই। যাতে তরুণ সমাজ শারীরিকভাবে সুস্থ ও তাদের মানসিক বিকাশ হয়।’

বিকেএসপিতে হাই-পারফরম্যান্স ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে আমার বিকেএসপি-কেন্দ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে। বিকেএসপি একটা অসাধারণ প্রতিষ্ঠান। তবে অনেক শিক্ষার্থী বিকেএসপি থেকে ঝরে পড়ে। তাদের ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। আমরা সেখানে একটি হাই-পারফরম্যান্স ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে চাই। আসিফ নজরুল কয়েক দিনের মধ্যে বিকেএসপি পরিদর্শন করবেন। বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। তিনি এ সংক্রান্ত একটি উপস্থাপনা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে ক্রীড়া উপদেষ্টা বিকেএসপি পরিদর্শনের সময় বিসিবি ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে সফরসঙ্গী করতে চান।

ফেডারেশনগুলোতে নির্বাচিত কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ তিনি স্বল্প সময়ে নেবেন কি না, এ ব্যাপারে কোনো ধারণা তিনি দেননি।