অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ডিআরএস বিতর্কের পর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহৃত প্রযুক্তির মান ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। এই বিতর্কের মূলে আছে স্নিকোমিটারের ভুল, যার দায় স্বীকার করেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
গতকাল বুধবার অ্যাডিলেড ওভালে ম্যাচের প্রথম দিনে ইংল্যান্ডের বোলার জশ টংয়ের বল ব্যাটে লেগে ক্যাচ হওয়ার আবেদন করেছিলেন ফিল্ডাররা। কিন্তু রিভিউ নেওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারিকে আউট দেওয়া হয়নি। স্নিকো প্রযুক্তিতে শব্দ ও ছবির মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যাওয়ায় তাকে নট-আউট ঘোষণা করা হয়।
পরে ক্যারি নিজেই স্বীকার করেন যে, বলটি তার ব্যাটে লেগেছিল। ওই সময় তিনি ৭২ রানে ছিলেন এবং জীবন পেয়ে খেলেন ১০৬ রানের ইনিংস। এই ত্রুটির দায় স্বীকার করেছে স্নিকো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিবিজি। তারা জানায়, ভুলবশত স্ট্রাইকার প্রান্তের বদলে নন–স্ট্রাইকার প্রান্তের স্টাম্প মাইক্রোফোনের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছিল।
দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও দল ব্যবস্থাপক ওয়েন বেন্টলি ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রোর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে নিশ্চিত করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডকে একটি রিভিউ ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর ডিআরএসের মান আরও উন্নত করার বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করবে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সব ম্যাচেই ডিআরএস বাধ্যতামূলক হলেও, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয় না আইসিসি। ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত আল্ট্রা এজের পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ায় ভিন্ন ধরনের স্নিকো ব্যবস্থাই এই বিতর্কের কেন্দ্রে। এই ঘটনায় টেস্ট ক্রিকেটে প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের সীমাবদ্ধতা ও তদারকির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এলো।