পরিবর্তনে রাজি ম্যাককালাম, তবে ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

অস্ট্রেলিয়ার কাছে অ্যাশেজ সিরিজে ৪–১ ব্যবধানে হারের পর তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। আধুনিক যুগের অন্যতম হতাশাজনক অ্যাশেজ সফরের পর ইংল্যান্ড দলের সংস্কৃতি, প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেও নিজের ক্ষমতা খর্ব হলে দায়িত্ব ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ম্যাককালাম।

২০২৪ সালের শুরু থেকে ইংল্যান্ড ২৮টি টেস্টে হেরেছে ১৪টি, জিতেছে মাত্র ১৩টি। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ম্যাককালাম বলেন, তিনি পরিবর্তন ও উন্নয়নের পক্ষে। কিন্তু এমন শর্তে নয় যাতে তিনি দল পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ হারান। তার ভাষায়, ‘যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে আমি আর দলকে সঠিকভাবে চালাতে না পারি, তাহলে হয়তো এই কাজের জন্য আমার চেয়েও ভালো কেউ আছে।’

এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে মাত্র ১১ দিনের মধ্যে প্রথম তিন টেস্টে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করে ইংল্যান্ড। এতে করে ম্যাককালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকসের অধীনে গড়ে ওঠা ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি নিয়েও সমালোচনা জোরালো হয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড ইতোমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা শুরু করেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড জানিয়েছেন, ‘প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতেই এই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।’

ম্যাককালামের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের অ্যাশেজ পর্যন্ত। তবে এই পর্যালোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে তিনি জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দায়িত্বে থাকবেন কি না। সফরের সময় খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। হ্যারি ব্রুকের একটি ঘটনায় তাকে জরিমানা করা হয়েছিল। তাছাড়া সিরিজের মাঝপথে খেলোয়াড়দের ঘোরাঘুরি আর মদ্যপান করে রাস্তাঘাটে মাতলামিও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

এতকিছুর পরও ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজম্যান্ট কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে সফর-পরবর্তী পর্যালোচনায় এসব বিষয় নতুন করে উঠে আসতে পারে। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাককালাম বলেন, ‘আমি অগ্রগতি ও পরিবর্তনের বিপক্ষে নই। খেলাধুলা হোক বা জীবন—সব জায়গাতেই ইভোলিউশন দরকার। কিন্তু আপনাকে কোনো না কোনো কিছুর পক্ষে দাঁড়াতে হবে। নিজের পদ্ধতিতে বিশ্বাস থাকতে হবে।’

ম্যাককালাম জানান, প্রয়োজনে সহকারী স্টাফ বদলানো বা কৌশলে সামান্য পরিবর্তন আনতে তিনি রাজি, তবে নিজের মূল দর্শন ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান। অধিনায়ক বেন স্টোকস ইতোমধ্যেই খেলোয়াড়দের সতর্ক করে বলেছেন, উন্নতি না হলে তিনি তার ‘নির্দয় দিক’ দেখাতে বাধ্য হবেন। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইংল্যান্ড দলে শিগগিরই শৃঙ্খলা ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন আসতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত