নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ ঘোষণার গুজবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত মৌচাক এলাকায় কোরেশ বাংলাদেশ পিএলসি লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা অন্দোলন শুরু করেন। এ সময় তারা সড়কে আগুন ধরিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কের দুপাশে তীব্র জানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রেখেই মালিক পক্ষ আকস্মিকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া বকেয়া পরিশোধ না করে শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাই করে দিয়েছেন। পাওয়ানা টাকা না দিয়ে কারখানা বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রথমে কারখানার সামনে একত্র হয়। পরে মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় শ্রমিকরা বাঁশ ও গাছে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। তীব্র যানজটে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রী সাধারণ।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই জুলহাস উদ্দিন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বয়েকা পরিশোধের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ টিআই জুলহাস উদ্দিন বলেন, পাওনা টাকার জন্য শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছিল। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে যানচালাচল স্বাভাকিক করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।