বড়াইগ্রামে সাংবাদিক দম্পতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ

বড়াইগ্রামে কথিত সাংবাদিক দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহবধূর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ায় এক সংবাদকর্মীকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কথিত সাংবাদিক রাসেল হোসেন (৪৩) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রিক্তা বেগমের (৩৮) নামে ভুক্তভোগী গৃহবধূ তাছিরন বেগম ও সংবাদ কর্মী সাহাবুল ইসলাম থানায় পৃথক এজাহার দায়ের করেছেন।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। রাসেল উপজেলার ইকড়ি গ্রামের মনিরুল ইসলাম মানিক মাস্টারের ছেলে।

এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বছর খানেক আগে উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের আলেপ মাঝির ছেলে আশরাফুল ইসলাম বিয়ে করেন। কিন্তু সে সময় কনে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়নি। এ খবর পেয়ে রাসেল হোসেন ও রিক্তা বেগম ওই বাড়িতে গিয়ে নিজেদের অনলাইন নিউজ পোর্টাল এডিপি বাংলা ও আমার দেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে আশরাফুল ইসলামের বিয়ে বৈধ হয়নি জানিয়ে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় প্রশাসনের কাছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার হুমকি দেন তারা। বাধ্য হয়ে আলেপ মাঝির স্ত্রী তাদের ১৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা অবশিষ্ট টাকার জন্য একাধিকবার ওই বাড়িতে গিয়ে চাপ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার সন্ধ্যায় তারা পুনরায় সেখানে গিয়ে অবশিষ্ট টাকা দাবি করলে স্থানীয়রা ওই দম্পতিকে আটক করেন।

খবর পেয়ে সংবাদকর্মী সাহাবুল তথ্য সংগ্রহে সেখানে গেলে অভিযুক্তরা তাকে জনসম্মুখে হুমকি দেন। এরপর ছাড়া পেয়ে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিঘলকান্দি বাজারে সংবাদকর্মীকে এলোপাথাড়ি মারপিট করেন তারা। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শুক্রবার সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ দম্পতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রাসেল হোসেন বলেন, প্রেমের প্রলোভনে একটি মেয়েকে নিয়ে এসে বিয়ে ছাড়াই ঘর সংসার করার খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চাঁদা দাবি বা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আর সংবাদকর্মীকে আমরা মারপিট করিনি, সেই আমাদের ওপর হামলা করেছে।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।