থাকার ঘর হিসেবে মাদরাসার অফিস ব্যবহারের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের এস এম দারুচ্ছুনাত দাখিল মাদরাসার অফিস কক্ষ ব্যক্তিগত থাকার ঘরে পরিণত করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানটির সুপার আব্দুল মান্নান। এতে মাদরাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবক ও স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে— মাদরাসার চারটি কক্ষের মধ্যে দুটি কক্ষই বসবাসের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। খাটে চাদর ও বালিশ বিছানো, কক্ষে পর্দা ঝোলানো—সব মিলিয়ে অফিস কক্ষটি পুরোপুরি বসতঘরে রূপ নিয়েছে। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থী অভিভাবক আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, মাদরাসাটি ১২টা থেকে ১টার মধ্যেই ছুটি হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি এমনভাবেই লক্ষ্য করছি।

অভিভাবক বেদার হোসেন শেখ বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান বাসা ভাড়া না নিয়ে মাদরাসার ভেতরই নিজের বসতবাড়ি বানিয়ে নিয়েছেন। আশপাশের এলাকায় ভাড়া নিয়ে থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি তা না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের বসত বানিয়ে ফেলছে।

এলাকাবাসী জানান, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা যখন অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত থাকার জায়গায় ব্যবহার করেন, তখন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এ ধরনের চর্চা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মান ক্রমেই নিচে নেমে যাবে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মাদরাসাটিকে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, কওমি মাদরাসার ছাত্ররা ও শিক্ষকরা ক্যাম্পাসেই থাকে, আপনারা সেই জায়গা দেখেন না? দেখেন শুধু আলিয়া মাদরাসায়। এ বিষয়ে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে সেটা অন্যায়। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।