গোসল না করায় শিশুকে প্রহার, আটক ১

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ এএম

নরসিংদী শহরের মাদরাসাতুল আবরার এরাবিয়া মাদরাসায় গোসল না করায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে প্রহারের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির পিঠজুড়ে বেত্রাঘাতে রক্ত জমাট বেঁধে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ভেলানগর জেলখানার মোড়ে অবস্থিত ওই মাদরাসা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা যায়, আহত শিশুটির নাম মুজাহিদ। সে শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কারারচর এলাকার দর্জি জুয়েল আহমেদ ও শান্তা বেগমের ছেলে এবং মাদরাসাটির নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। শুক্রবার শিক্ষক তাকে গোসল করতে বলেন। এতে অনীহা প্রকাশ করলে ও কথা না শুনলে তাকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে জ্ঞান ফেরার পর আবারও তাকে প্রহার করা হয়।

একপর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। এ সময় শিশুটি বারবার ক্ষমা চাইলেও তাকে মারধর বন্ধ করা হয়নি। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে শিশুটির বাবা মাদরাসায় গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা জামা খুলে দেখেন, তার শরীরজুড়ে বেত্রাঘাতের দাগ ও রক্তাক্ত ক্ষত রয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাড়িতে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি ঘটে। রাত ২টার দিকে জ্বর, বমি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে পুনরায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশু মুজাহিদ জানায়, ‘আমি গোসল না করায় হুজুর আমাকে মারছে। মারার পর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে আবার উঠার পর আবার মারছে। আমি বারবার মাফ চাইছি, তবুও আমাকে মারছে।’

শিশুটির মা শান্তা বেগম বলেন, ‘হুজুরদের দায়িত্ব বাবা-মায়ের মতো করে আদর করে পড়ানো। এভাবে মারধর করলে আমরা ছোট বাচ্চাদের কীভাবে মাদরাসায় পাঠাব? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আমি তাকে গোসল করতে বলেছিলাম। কথা না শুনায় রাগের মাথায় প্রহার করেছি। এটা আমার ঠিক হয়নি। আমি ক্ষমা চেয়েছি।’

মাদরাসার পরিচালক মুফতি মিসবাহ উদ্দিন নোমানী জানান, ঘটনার সময় তিনি মাদরাসায় ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, শিশুটির পিঠ, হাত ও পায়ে বেত্রাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সে কষ্টের মধ্যে রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর এম আল-মামুন বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত