রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম: কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে নিন্মমানের কাজের প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে সাইট ত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

এলাকাবাসীর দাবি, কাজ শুরুর পর থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, অনিয়ম ও নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে রাস্তার গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, রাস্তা পাকাকরণে নির্ধারিত পরিমাণ ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হয়নি। বরং রাতের আঁধারে ৩ নম্বর ইট ও বালির পরিবর্তে মাটি ফেলে সড়কের বেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। সকাল হওয়ার আগেই নিন্মানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালানো হতো আর পরে দায়সারা ভাবে উপরে নামমাত্র ভালো খোয়া ফেলে কাজ করা হচ্ছিল। আরও অভিযোগ রয়েছে, বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করেই পানি না দিয়ে রোলার চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। 

এলাকাবাসী আরও জানান, কাজটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর তদারকি ছিল না। একাধিকবার অনিয়মের বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন এলাকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কাজ করতে না দিলে কাজ বন্ধই থাকবে। আর এলাকাবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য কাজ হলে ভালো কাজই হতে হবে, নইলে বন্ধ থাকাই ভালো।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে রাস্তার বিভিন্ন অংশ কোদাল দিয়ে গর্ত করে দেখিয়ে দিচ্ছেন নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ। সামান্য ইট খোঁড়ালেই বেরিয়ে আসছে শক্ত মাটি। বেজমেন্টে বালির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে অতি সামান্য বালি, যা মূলত ধূলা-মাটিতে ভরা। পানি ছাড়াই রোলার চালানো হয়েছে। রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে নিন্মমানের মাটিযুক্ত ইটের খোয়া। কেবল লোকালয় সংলগ্ন কিছু স্থানে ওপর ভালো খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। 

প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, জিওবিএম এর আওত্তায় উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকায় ৯ শত মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ পায় এম এইচ কনস্ট্রাকশন ফার্ম এর সত্তাধিকারী মাসুদ হাসান (লালপুর, নাটোর)। এ কাজের চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ লাখ ১৫ হাজার ২৭৬ টাকা। 

এ বিষয়ে সাইলকোনা গ্রাম পুলিশ হাসান আলী বলেন, এই রাস্তায় যাবতীয় যা কিছু ব্যবহার করা তা অত্যন্ত নিন্মমানের। যে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে তাতে কোনো মানই নেই।

ওই এলাকাবাসীর পক্ষে রঞ্জু, সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় আরও অনেকে জানান, রাতে লোকচক্ষুর আড়ালে তারা এগুলো ফেলে যায়। কাজ যখন শুরু হয় তখন ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বের করা হয় তারা বলায়ও এগুলো ফেলে দেয়নি। বরং তারাই উল্টা ধমক দিয়েছে। খারাপ মানহীন রাবিসগুলো যখন নিয়ে আসে তখন এলাকাবাসী নিষেধ করলে তারা বলেছে খুবই ভালো মানের কাজ হবে। তারা কিছু ভালো খোয়া এনেছে যা লোকবসতির স্থানে দিয়েছে আর যেখানে লোকবসতি নেই সে জায়গায় নিন্মমানের ব্যবহার করছে। রোলার করার সময় এলাকাবাসী পানি দিতে বললেও তারা পানি দেয়নি। কারণ পানি দিলে কাঁদা বের হয়ে যাবে। এভাবে রাস্তা হলে কয়েক মাসও টিকবে না। আমরা ভালো কাজ চাই বলেই বাধা দিয়েছি।

এ বিষয়ে এম এইচ কনস্ট্রাকশন ফার্ম এর সত্তাধিকারী মাসুদ হাসান বলেন, এটা মূলত জিওবিএম এর আওত্তায় রাস্তা রপিয়িারিং কাজ। এখানে পুরাতন ইট, খোয়া ব্যবহৃত হবে যা এলাকার লোকজন বুঝতে পারেন নি। তাই তারা এ কাজ করেছেন।

এ বিষয়ে ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএসএম লেলিন বলেন, কাজের মান নিয়ে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন ইঞ্জিনিয়ার এসে তা দেবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের কার্যসহকারী ও ওই রাস্তার কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মাসুদ রানা জানান, রাস্তার ইজিংয়ে ব্যবহিত পুরাতন  ইটগুলো সবই তিন নম্বররের আর ভাটার যে ২৬ গাড়ি খোয়গুলো এসেছে তার মধ্যে মাত্র ৩ গাড়ি তুলনামূলক কম মানের ছিল। ইটগুলো ভাঙার সময় স্বাভাবিক ভাবেই গুঁড়া ও ডাস্ট হয় কিন্তু এলাকাবাসীর কথা হলো গুঁড়া ও ডাস্ট থাকা যাবে না।  আর ওই রাস্তার বিগত দিনে যে কাজগুলো হয়েছিল তা সম্পূর্ণ তিন নম্বর খোয়া, ইট ও মাটি ব্যবহার করেই করা হয়েছিল। যা ইস্টিমেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আর এলাকাবাসী প্রথমে বাধা না দিয়ে কাজ শেষ সময়ে এসে বাধা দিচ্ছেন। তারা প্রথমেও বলতে পারতেন। আর বেজমেন্টে বালির পরিবর্তে মাটি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অনুপকুমার ঘোষ বলেন, তারা সবেমাত্র কাজ শুরু করেছেন। তারা এজিংয়ে খোয়া ভেঙে সবেমাত্র দিয়েছেন পরে আবার খোয়া দেওয়া হবে। এলাকাবাসি বিষয়টি বুঝতে পারেন নি। তিনি নিজেও পরে সাইডে যাবেন এবং দেখবেন বলে জানান।