ইউরোপীয় ফুটবলে এক অনন্য মৌসুম পার করেছে পিএসজি। ২০২৫ সালে লুইস এনরিকের অধীনে ফরাসি ক্লাবটি ইউরোপ ও দেশের প্রায় সব বড় শিরোপা জিতে নেয়। ক্লাব বিশ্বকাপ ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ওয়ান, ফ্রান্স কাপ, ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ—সবই উঠেছে পিএসজির ঘরে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকেকে আজীবন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ক্লাবটি।
স্পেনের একটি ক্রীড়া দৈনিকের তথ্য অনুযায়ী, পিএসজির মালিকপক্ষ মনে করছে, লুইস এনরিকের নেতৃত্বই ক্লাবের বর্তমান সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাই প্রচলিত মেয়াদি চুক্তির বাইরে গিয়ে তাকে আজীবনের জন্য বেঁধে রাখার চিন্তাভাবনা চলছে, যা ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে আগে কখনো দেখা যায়নি। বর্তমানে লুইস এনরিকের সঙ্গে পিএসজির চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।
৫৫ বছর বয়সী লুইস এনরিকে এর আগে বার্সেলোনা ও সেল্তা ভিগোকে কোচিং করিয়েছেন এবং স্পেন জাতীয় দলের দায়িত্বও পালন করেছেন। প্যারিসে এসে তিনি যে শৃঙ্খলা, দলগত প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন, তাতেই বদলে গেছে দলের মানসিকতা। নামের চেয়ে পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়ার এই দর্শনে দেম্বেলে, বারকোলা ও খভারাতস্কেলিয়ার মতো খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পেরেছেন।
এনরিকের অধীনেই উসমান দেম্বেলে এই মৌসুমে ব্যালন ডি’র এবং বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন। শুধু ট্রফি জেতাই নয়, ব্যক্তিগত স্বীকৃতিতেও উজ্জ্বল এনরিক। তিনি ব্যালন ডি’র গালা এবং ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন। বছরের শেষ দিকে গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডেও তার নাম এগিয়ে রয়েছে। এসব সাফল্য পিএসজির পরিচালনা পর্ষদের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে। তবে কাতারভিত্তিক মালিকপক্ষ চাইছে, এই সম্পর্ককে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী রূপ দিতে।
ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক লুইস কাম্পোসও কোচের সবচেয়ে বড় সমর্থকদের একজন হিসেবে এই পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ভবিষ্যতে বড় তারকাবিহীন দল গড়েও কীভাবে ইউরোপের শীর্ষে থাকা যায়, সেটিই এখন পিএসজির নতুন চ্যালেঞ্জ। একসময় এমবাপ্পে, মেসি ও নেইমারের মতো তারকারা থাকলেও ইউরোপীয় সাফল্য আসেনি। আর এখন সমষ্টিগত শক্তিতে শীর্ষে উঠে এসেছে দলটি। লুইস এনরিক এই আজীবন চুক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।