বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কারণ নেই। বিশেষ করে, জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, হত্যা ও আইনশৃঙ্খলাজনিত অরাজক পরিস্থিতি তত বাড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক-উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। আমাদের দেশে আইনশৃঙ্খলার এমন চিত্র অবশ্য নতুন নয়। বিগত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেও একই রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। বলা ভালো, এ পর্যন্ত যত সংসদ নির্বাচন হয়েছে, প্রায় সবটিরই আগে-পরে টার্গেট কিলিং হয়েছে। শুধু কিলারগড এবং চক্রের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে এ ধরনের খুনের প্রকৃত বিচার হয়নি। নির্বাচনের পর, নির্বাচিত সরকার সেসব খুনের বিষয়ে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে এ ধরনের খুন, প্রায় রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে গেছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীসহ বিগত সরকারের মূল নেতৃত্ব দেশত্যাগী, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন, সেহেতু সন্দেহের তীর তাদের দিকেই। বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা যাচ্ছে ভারতে বসে এ ধরনের টার্গেট কিলিংয়ের নেতৃত্ব তারাই দিচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, টার্গেট কিলিংয়ের তালিকায় রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি নেতা, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। এমনকি হুমকিতে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। সরকারের বিভিন্ন কর্র্তৃপক্ষ ও বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বানচালের পরিবেশ তৈরি করাই টার্গেট হামলার মূল উদ্দেশ্য। সরকার মনে করছে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের অনেক নেতা। তাদের মূল উদ্দেশ্য, সমাজে ভীতি-আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচন বানচাল করা। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। জানিয়েছেন ‘রাজনৈতিক খুন প্রতিরোধ করতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার সবার আগে ঠেকাতে হবে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো যেন শীর্ষপর্যায়ের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয়। ভয়হীন ভোটের পরিবেশ গড়ে তুলতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি বিধানের কথা বললেও, পরিকল্পিত হত্যাকা-গুলোর কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না। অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির মিশন নিয়ে নামানো হচ্ছে দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসীদের।
রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে একটি প্রভাবশালী চক্র নেপথ্যে পেশাদার সন্ত্রাসী ও কিলারদের কৌশলে উসকে দিচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মূলত নির্বাচন ‘বানচাল ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করতেই টার্গেট কিলিং’ হচ্ছে! এটা পরিষ্কার জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে একটি অপশক্তি। সত্যিকার অর্থে, সেই অন্ধকারের শক্তিকে যদি এ মুহূর্তে নিষ্ক্রিয় করা না হয় তাহলে সামনে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি থাকবে না। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশ জুড়ে পেশাদার অপরাধীদের তালিকা করে এখনই আইনের আওতায় আনা জরুরি। এজন্যই কি পুলিশ সদস্যদের হামলার টার্গেট করা হয়েছে! সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে, এমন হুমকি আগেও ছিল। তারপরও নির্বাচন হয়েছে। আগামীকাল তারেক রহমানের দেশে আসার কথা। এমন সময় তিনি দেশে আসছেন, যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেও স্থিতিশীল নয়। ফলে তার নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার এবং বিএনপিকে গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে।