অ্যাশেজ সিরিজ আর জেতা সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই শেষ দুই টেস্টে সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে চায় ইংল্যান্ড। অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্ট হেরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ইংলিশ শিবিরে হতাশা চরমে পৌঁছেছে। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসের কণ্ঠে এখনো হার মানার সুর নেই। বক্সিং ডে টেস্টকে সামনে রেখে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সফর থেকে অন্তত ‘কিছু একটা উদ্ধার’ করতে চান তারা।
অ্যাডিলেড টেস্টের পর ইংল্যান্ড দলের মানসিক অবস্থার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন স্টোকস। তার ভাষায়, ম্যাচটি হারের পর সবাই ছিলেন ভীষণভাবে ভেঙে পড়া। ‘আমরা হৃদয়ভাঙা ছিলাম, সবাই হতাশ ও বিধ্বস্ত। অ্যাডিলেড ছাড়ার সময় জানতাম, এখন আর অ্যাশেজ জেতা সম্ভব নয়—এটা মানা সত্যিই কষ্টের,’ বলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
তবে সিরিজ নির্ধারিত হয়ে গেলেও লড়াই যে শেষ হয়ে যায়নি, সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন স্টোকস। তার মতে, বাকি দুই টেস্টে এখনো অনেক কিছু প্রমাণ করার আছে ইংল্যান্ডের। ‘অ্যাশেজ জেতা সম্ভব না হলেও আমাদের সামনে এখনো দুটি বড় ম্যাচ আছে। এই ম্যাচগুলোতে আমরা ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করব—এর চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর কিছু হতে পারে না,’ বলেন তিনি।
স্টোকস স্বীকার করেছেন, এই সিরিজে ইংল্যান্ড দল তাদের সেরা পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। প্রস্তুতি থেকে শুরু করে অধিনায়কত্ব, ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন তিনি। তবুও ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া তাকে কিছুটা আশাবাদী করেছে। ‘অ্যাডিলেডের পর আলোচনা যেভাবে এগিয়েছে, সেটা দেখে ভালো লেগেছে। সবাই বুঝেছে, সিরিজ না জিতলেও আমাদের সামনে এখনো গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচ আছে,’ বলেন স্টোকস।
হোয়াইটওয়াশের আশঙ্কা এখনো উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড দল, কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং ক্রিকেট পরিচালক রব কীর ওপর চাপ বাড়ছে। তবে স্টোকস জানালেন, এই চাপই হয়তো তাদের আরও লড়াকু করে তুলবে। ‘হতাশা আছে, ক্ষোভ আছে। কিন্তু আমরা মাঠে নামব সবটুকু দিয়ে। এই সফর এখনো শেষ হয়নি,’ যোগ করেন তিনি।
বক্সিং ডে টেস্টের মাহাত্ম্য নিয়েও আলাদা করে কথা বলেছেন স্টোকস। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলার সুযোগকে তিনি বিশেষ সৌভাগ্য বলে মনে করেন। ‘বক্সিং ডে টেস্ট এমন একটি ঐতিহ্য, যেখানে খেলতে পারা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। আশা করছি, এই ম্যাচ শেষে আমরা অন্তত একটি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারব,’ বলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া বক্সিং ডে টেস্টে তাই ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য একটাই—অ্যাশেজ না হলেও, সম্মান আর আত্মবিশ্বাস ফেরানো।